মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিববর্ষভিত্তিক বই প্রকাশ ও সরবরাহের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান শেষে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ বিষয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দুদকের অভিযানে এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর পরিদর্শন করে এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে। রেকর্ডপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনায় দেখা যায় একই প্রকাশনী থেকে একাধিক বই ক্রয় করা হয়েছে এবং পুস্তক বাছাই কমিটির সদস্যদের নামীয় লেখা একাধিক বইও ওই প্রকল্পের আওতায় ক্রয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে টিমের কাছে মনে হয়েছে। অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পূর্ণাঙ্গরূপে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার প্রকল্পের আওতায় দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্নার তৈরি করা হয়। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের এই প্রকল্পে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করে মুজিব পরিবারের গুণকীর্তনমূলক বই প্রকাশ করেছে। এসব বই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ঠেকাতে তারা সামাজিকমাধ্যম ও রাজপথে সক্রিয় ছিল। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কিছু প্রকাশক সে সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানে জোর করে বই বিক্রি করেছেন এবং ইচ্ছামতো দাম নিয়েছেন। বর্তমানে অনেকে ভয়ে আত্মগোপনে আছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় বদলে নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছেন। বিগত সরকারের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, গণগ্রন্থাগার ও বিভিন্ন প্রকল্পে বই সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরও বলছে, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে বই কেনার জন্য সরকারের ১০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রায় অর্ধেকই বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিয়ে লেখা বই কিনতে ব্যয় করা হয়। প্রকাশনা খাতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে অন্তত ২০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে।
আরআই/টিকে