ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে রাহমানউল্লাহ গুরবাজের পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে ঠিক পথেই ছিল আফগানিস্তান। শুরুর জুটি ভাঙার পর একার লড়াইয়ে আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান গুরবাজ। তবে তাকে থামানোর পর, চমৎকার হ্যাটট্রিকে ব্যবধান গড়ে দিলেন শামার স্প্রিঙ্গার।সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দুবাইয়ে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১৫ রানে জিতেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই মাঠে ক্যারিবিয়ানদের এটাই প্রথম জয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫১ রান তাড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৬ রান করতে পেরেছে আফগানিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজ তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। ৫৮ বলে এক ছক্কা ও আট চারে ৭১ রান করেন আফগান গুরবাজ। ক্যারিবিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার স্প্রিঙ্গার ২০ রানে নেন ৪ উইকেট।ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিনি কোনো ম্যাচে একাধিক উইকেট পেলেন।
দুবাইয়ে টস হেরে বৃহস্পতিবার ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে জনসন চার্লসকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ব্রেন্ডন কিং এক প্রান্ত আগলে রাখলেও আরেক প্রান্তে তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি কেসি কার্টি ও জাস্টিন গ্রেভস।
ষোড়শ ওভারে কিং ও শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বড় ধাক্কা দেন রাশিদ খান। ৩৫ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৪৭ রান করেন কিং। দুই ছক্কায় ৬ বলে ১৩ রান করে থামেন হেটমায়ার। শেষ দিকে ১১ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৭ রানের দারুণ ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন ম্যাথু ফোর্ড। ৯ বলে তিন চারে অপরাজিত ১৬ রান করেন স্প্রিঙ্গার। তাদের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রান তাড়ায় আফগানিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন গুরবাজ ও জাদরান। ১০ ওভারে ৭২ রান তোলেন দুই ওপেনার। শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮০ রান। একাদশ ওভারে আক্রমণে ফিরে প্রথম বলে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ফোর্ড। স্লোয়ারে ধরা পড়ার আগে ২৭ বলে চারটি চারে ২৮ রান করেন ইব্রাহিম।
তিনে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি সেদিকউল্লাহ আটাল। দ্রুত ফেরেন দারভিশ রাসুলি। বেশ কিছু আঁটসাঁট ওভারে শেষের সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে আফগানিস্তানের। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ৪ ওভারে ৪৫ রানের সমীকরণ মেলাতে জ্বলে উঠতে পারেননি মোহাম্মদ নাবি। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার থেমে যান একটা ছক্কা মেরেই।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়া গুরবাজ পরপর দুই বলে চার মারেন খ্যারি পিয়েরকে। শেষ ২ ওভারে তখন ২৫ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের, হাতে ছিল ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু পরপর তিন বলে গুরবাজ, রাশিদ ও শাহিদউল্লাহকে ফিরিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে ঘুরিয়ে দেন স্প্রিঙ্গার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে পরপর তিন বলে উইকেট নিলেন পেসার স্প্রিঙ্গার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এটি চতুর্থ হ্যাটট্রিক।
চলতি সিরিজে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক, আগের ম্যাচে পরপর তিন বলে তিন উইকেট নেওয়া মুজিব উর রহমান ওভারের শেষ বলে মারেন চার। শেষ ওভারে ২১ রানের কঠিন সমীকরণ মেলানোর ধারে কাছে যেতে পারেনি আফগানিস্তান। দুই ওপেনার ছাড়া দলটির আর কেউ ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরে গেল তারা।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ খেলবে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫১/৭ (কিং ৪৭, চার্লস ১৭, কার্টি ১০, গ্রেভস ১২, হেটমায়ার ১৩, স্যামসন ৩, ফোর্ড ২৭, স্প্রিঙ্গার ১৬*, মোটি ২*; মুজিব ৪-০-২২-০, জিয়াউর ৩-০-৪৫-২, শাহিদউল্লাহ ১-০-১৩-১, রাশিদ ৪-০-১৩-২, আহমাদজাই ৪-০-৩০-২, নাবি ২-০-১৮-০, নাইব ১-০-৮-০)
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৬/৮ (গুরবাজ ৭১, ইব্রাহিম ২৮, সেদিকউল্লাহ ৭, রাসুলি ৪, নাবি ৬, নাইব ৭, রাশিদ ০, শাহিদউল্লাহ ০, মুজিব ৪, আহমাদজাই ০*; ফোর্ড ৩-০-২৮-১, পিয়ের ৪-০-২৯-১, সাইমন্ডস ৪-০-২৬-১, স্প্রিঙ্গার ৪-০-২০-৪, গ্রেভস ১-০-১৪-০, মোটি ৪-০-১৭-০)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে আফগানিস্তান ২- ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শামার স্প্রিঙ্গার
ম্যান অব দা সিরিজ: দারভিশ রাসুলি
এমআর/টিএ