হাইতির ট্রানজিশনাল প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের (টিপিসি) সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমকে অপসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সতর্কতা সরাসরি উপেক্ষা করলেন।
গতকাল শুক্রবারের এই ঘোষণার ফলে সংকটাপন্ন ক্যারিবীয় দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও গভীর হলো। ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতা এবং অস্থিরতার কারণে হাইতিতে বারবার নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে।
কাউন্সিল সদস্য লেসলি ভলতেয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের নভেম্বরে দিদিয়ের ফিলস-এইমকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। আমরা তাঁর সঙ্গে এক বছর কাজ করেছি এবং এখন আমাদেরই দায়িত্ব নতুন ডিক্রি জারির মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী, নতুন সরকার এবং নতুন প্রেসিডেন্সি গঠন করা।’
কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, ৯ সদস্যের এই প্যানেলের মধ্যে ৫ জনই ৩০ দিনের মধ্যে ফিলস-এইমকে অপসারণ এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত এই ভোটের ফলাফল দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়নি। আইনিভাবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার জন্য গেজেটে প্রকাশ হওয়া বাধ্যতামূলক। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েস হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ২০২৪ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাহী সংস্থা হিসেবে টিপিসি গঠন করা হয়। তবে দ্রুতই এটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত হয়ে পড়ে।
কাউন্সিলটি গঠনের মাত্র ছয় মাস পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গ্যারি কোনিলকে সরিয়ে দেয় এবং তাঁর জায়গায় ফিলস-এইমকে স্থলাভিষিক্ত করে।
দেশজুড়ে সাধারণ নির্বাচনের রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব থাকলেও কাউন্সিলটি শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনগুলো স্থগিত করে দেয়। কথা ছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হবে। পরিবর্তে এখন আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে ফেডারেল নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে কাউন্সিলের মেয়াদ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ফিলস-এইমের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সন্ত্রাসী গ্যাং মোকাবিলা ও দ্বীপরাষ্ট্রটিতে স্থিতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
রুবিও বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিপিসি অবশ্যই বিলুপ্ত করতে হবে এবং কোনো দুর্নীতিবাজ পক্ষ যেন নিজেদের স্বার্থে হাইতির গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউটি/টিএ