নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দেশাত্মবোধের সুর ছড়িয়ে দিলেন অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই শহরে আয়োজিত কনসার্টে তিনি পরিবেশন করেন ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জনগণমন’। সুরের মূর্ছনায় ভেসে যায় এতিহাদ এরিনার বিশাল মঞ্চ, আবেগে একসূত্রে বাঁধা পড়েন হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলিউডে কাজ না পাওয়ার পেছনে ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন রহমান। সেই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই সময় নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের গান গেয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এতিহাদ এরিনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে রহমান যখন ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন শুরু করেন, তখন দর্শকাসন জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। পর মুহূর্তেই ‘জনগণমন’-এর সুরে গলা মেলান উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ। দর্শকদের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই দৃশ্য ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
দুবাইয়ের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শেখর কাপুর। কনসার্ট শেষে তিনি জানান, পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তাঁর কথায়, এটি ছিল এক অসাধারণ সন্ধ্যা। প্রায় কুড়ি হাজার দর্শক সুরের আবেশে ভেসে গিয়েছিলেন কেউ হাসছিলেন, কেউ গাইছিলেন, আবার কারও চোখ বেয়ে নেমে আসছিল আবেগের জল।
এর আগে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রহমান বলেছিলেন, ‘রোজা’, ‘বোম্বে’, ‘দিল সে’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেও তিনি দীর্ঘদিন নিজেকে বলিউডের বাইরে একজন মানুষ হিসেবেই অনুভব করতেন। তবে সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার পর সেই দূরত্ব কমতে শুরু করে। রহমানের মতে, ‘তাল’-এর গান দক্ষিণী সংগীতধারা ও হিন্দি শ্রোতাদের মধ্যে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন গড়ে দিয়েছিল।
নেতাজি জন্মজয়ন্তীর দিনে দুবাইয়ের মঞ্চে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে বিতর্কের আবহ ছাড়িয়ে আবারও নিজের সুরের শক্তিতেই আলোচনায় ফিরলেন এ আর রহমান। সংগীতের ভাষায় ঐক্য ও আবেগের বার্তাই যেন সেদিন ছুঁয়ে গেল হাজারো হৃদয়।
পিআর/টিকে