প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী প্রাপ্তিতে আনন্দের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে টলিউড জুড়ে। ২০২৬ সালের পদ্ম সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই অভিনন্দন আর শুভেচ্ছায় ভাসছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে সমান্তরাল ধারার সিনেমা সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন প্রসেনজিৎ। সেই অবদানেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় স্তরের এই সম্মানকে দেখছেন তাঁর সতীর্থরা।
ছেলের এই কৃতিত্বে আবেগাপ্লুত বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি জানান, বুম্বা তাঁদের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সন্তানের এমন স্বীকৃতিতে যে আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। আশীর্বাদের পাশাপাশি গর্বের কথাও উঠে আসে তাঁর কণ্ঠে।
প্রসেনজিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন জুটি বেঁধে কাজ করা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও এই সম্মানে দারুণ খুশি। তাঁর মতে, এই পুরস্কার অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। অভিনয়ের প্রতি প্রসেনজিতের নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই পদ্মশ্রীকে দেখছেন।
পরিচালক অতনু ঘোষের কথায়, প্রসেনজিত বছরের পর বছর নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে গিয়েছেন। নিয়মশৃঙ্খলা, একাগ্রতা এবং নিজেকে বারবার ভাঙার সাহসই তাঁকে আলাদা করেছে। ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিই হোক বা অন্য ধারার কাজ সব ক্ষেত্রেই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, আত্মপ্রচারের পথে না হেঁটে চুপচাপ কাজ করে যাওয়া একজন অভিনেতার জন্য এই সম্মান একেবারেই প্রাপ্য। তাঁর অভিনয়জীবনে দেরিতে হলেও জাতীয় স্তরের এই স্বীকৃতি প্রসেনজিতের জন্য যথার্থ বলেই মনে করছেন তিনি।
এর আগে ‘দোসর’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারের বিশেষ জুরি সম্মান পেয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। মূল বিভাগে জাতীয় পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ তিনি বহুবার প্রকাশ করেছিলেন। তবে পদ্মশ্রীর মতো সম্মান পেয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন টলিউডের একাংশ। বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁর অবদানকে কুর্নিশ জানিয়ে এই সম্মান নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
পিআর/টিকে