প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ১৭ এপ্রিল, রায়ান কুগলারের হরর সিনেমা ‘সিনার্স’। মুক্তির আগে দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াল ছবিটি, দর্শকও ভিড় জমাল প্রেক্ষাগৃহে। মাত্র ৯০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের সিনেমাটি ব্যবসা করেছে ৩৬৮ মিলিয়ন ডলার; হয়ে উঠেছে বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা। যদিও গোল্ডেন গ্লোবেতে সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি, তবুও ৯৭ বছরের ইতিহাস ভেঙে অস্কারের ১৬টি মনোনয়ন পেয়েছে ‘সিনার্স’।
সংশয় থেকে সাফল্য
ছবির গল্প দুই যমজ ভাইকে নিয়ে, যারা নতুন শুরুর আশায় ফিরে আসে মিসিসিপিতে। তবে শহরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এমন কিছু, যা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি কেউ। ভ্যাম্পায়ার ঘরানার এই হরর সিনেমার পটভূমি জিম ক্রো আইনের যুগের দক্ষিণ আমেরিকা। পুরো ছবি শুট করা হয়েছে আইম্যাক্স ৭০ এমএম ফরম্যাটে, এবং অভিনয়শিল্পীদের বড় অংশই কৃষ্ণাঙ্গ।
রায়ান কুগলার ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির খ্যাতি অর্জনের পর এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তা ঘিরে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। মাত্র দুই মাসে লেখা চিত্রনাট্য নিয়ে ৯ কোটি ডলারের বাজেটের ছবি বানানো এবং স্টুডিওর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেককে ‘পাগল’ মনে হয়েছিল। কিন্তু সিনেমা বিশ্বের নজর কাড়ে ৩৬৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। এটি গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সফল মৌলিক সিনেমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দশম সর্বোচ্চ আয় করা আর-রেটেড চলচ্চিত্র।
ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সমন্বয়
যে সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস ও সংস্কৃতি রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, ‘সিনার্স’ তা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। মাত্র দুই মাসে লেখা চিত্রনাট্যের পেছনে ছিল বহু বছরের গবেষণা—মিসিসিপি ডেল্টার লোককথা, দাসপ্রথা-পরবর্তী সংস্কৃতি, ব্লুজ সংগীতের ইতিহাস সবকিছুই ছবিতে প্রতিফলিত। কুগলার নিজ অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে তাঁর প্রয়াত মামার ব্লুজ সংগীতের রেকর্ড সংগ্রহের সঙ্গে পরিচয়, ছবির গভীরতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ছবিতে এশীয় চরিত্রও স্টেরিওটাইপ ছাড়াই উপস্থাপন করা হয়েছে। মালয়েশীয় অভিনেতা ইয়াও বলেন, “এখানে এশীয় চরিত্রগুলোকে স্টেরিওটাইপিক উচ্চারণ ছাড়া ইংরেজিতে কথা বলতে দেখা গেছে, যা আমাদের জন্য আনন্দের।”
দৃশ্য, অভিনয় ও বিশদ নির্মাণ
কস্টিউম ডিজাইনার রুথ ই কার্টার, সেট ডেকোরেটর মনিক শ্যাম্পেন ও প্রযোজক হিসেবে কুগলারের স্ত্রী জিনজি সবার সমন্বয়ে ছবির জগৎ তৈরি হয়েছে। হেইলি স্টাইনফেল্ড ‘মেরি’ চরিত্রে এবং ডেলরয় লিন্ডো ‘ডেল্টা স্লিম’ চরিত্রে অভিনয় করে চমক দিয়েছেন। মাইকেল বি জর্ডান তাঁর দ্বৈত চরিত্রে সেরা পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেছেন।
দর্শক ও সমালোচকদের সাড়া
ছবিটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচক উভয়েই প্রশংসা করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে, “ছবিটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘরানার নিয়ম মেনে চলে না। দর্শক প্রবেশ করেই জানেন না গল্প কোন দিকে যাবে, ফলে দ্বিতীয়বার দেখলে নতুন কিছু ধরা পড়ে।”
অস্কারে ১৬ মনোনয়ন পাওয়ার পর কুগলার বলেন, “আমি খুব খুশি, আমাদের সবাইকে সম্মান জানানো হয়েছে। আমি পক্ষপাতদুষ্ট; আমার সঙ্গে কাজ করা লোকেরা বিশ্বের সেরা।”
এমকে/টিএ