বাজারে পা দিলেই মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রথম চিন্তা ঘুরপাক খায় দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পুষ্টি আর খরচ। সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই মনে করেন, ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হলে খরচ বাড়তেই হবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। একটু সচেতন পরিকল্পনা ও অভ্যাসের পরিবর্তন আনতে পারলেই দৈনন্দিন বাজেটের মধ্যেই পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার বলতে সব সময় দামি ফল, বিদেশি শাকসবজি কিংবা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী বোঝায় না। বরং আমাদের চারপাশেই রয়েছে এমন অনেক সহজলভ্য খাবার, যেগুলো নিয়ম মেনে খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং সংসারের খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খরচ কমানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো খাবারের পরিকল্পনা। সারা দিনে কী খাওয়া হবে বা কোন কোন পদ রান্না হবে, তা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা পড়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই মোটামুটি একটি খাবারের পরিকল্পনা করে নিলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে আসে। একই সঙ্গে খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
পুষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো মৌসুমি ও স্থানীয় ফল ও সবজি। মৌসুম অনুযায়ী উৎপন্ন শাকসবজি ও ফল সাধারণত কম দামে পাওয়া যায় এবং এসবের পুষ্টিগুণও বেশি থাকে। কলাই শাক, পুঁই শাক, লাউ, কুমড়া, পেঁপে কিংবা কলার মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পায়, অথচ খরচ বাড়ে না।
প্যাকেটজাত ও বাইরে থেকে কেনা খাবারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আরেকটি বড় সমস্যা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে এসব খাবার সস্তা মনে হলেও পুষ্টিগুণ কম এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ বেশি পড়ে। এর পরিবর্তে ঘরে রান্না করা ভাত, ডাল, শাকসবজি, ডিম কিংবা দই খেলে খরচ কমে এবং শরীরও ভালো থাকে।
অনেকের ধারণা, প্রোটিন মানেই দামি মাছ বা মাংস। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ডিম কিংবা বাদামের মতো খাবার কম দামে সহজেই পাওয়া যায় এবং এগুলো প্রোটিনে সমৃদ্ধ। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়।
খরচ বাঁচানোর আরেকটি কার্যকর উপায় হলো প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনা। চাল, ডাল কিংবা আটা একবারে বেশি কিনলে দাম তুলনামূলক কম পড়ে এবং বারবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলাও কমে।
অনেক পরিবারেই রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া হয়। অথচ আগের দিনের ভাত বা সবজি সামান্য পরিবর্তন করে নতুন পদ তৈরি করা সম্ভব। এতে খাবার নষ্ট হয় না এবং নতুন করে রান্নার খরচও বাঁচে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা। শুধু দাম দেখে নয়, খাবারের পুষ্টিগুণ বিচার করেই খাদ্য নির্বাচন করা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা ও ছোট কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারলেই অল্প খরচে সুস্থ ও পুষ্টিকর জীবনযাপন করা সম্ভব।
এমকে/এসএন