ভয়াবহ এক সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সব আরোহী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি প্রদেশ চিয়াং মাই-এ একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ বিমানের মহড়া চলাকালীন মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি প্রদেশ চিয়াং মাই-এ একটি সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দুই আসনবিশিষ্ট বিশেষ প্রশিক্ষণ বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দুর্গম বনাঞ্চলে আছড়ে পড়ে। এতে বিমানে থাকা দুই পাইলট ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। থাই রাজকীয় বিমান বাহিনী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র জ্যাকক্রিট থামানভিচাই জানান, বিমানটি একটি বিশেষ ‘যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার’ (Combat Search and Rescue) প্রশিক্ষণ মিশনের অংশ হিসেবে উড্ডয়ন করেছিল। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ রাডার থেকে বিমানটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চিয়াং মাই প্রদেশের গভীর জঙ্গলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে, বিমানে থাকা দুই পাইলটই নিহত হয়েছেন। বিমান বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থলটি জনবসতি থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি এবং স্থানীয়দের জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের সামরিক কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বৈরী আবহাওয়া- কোনটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলেও থাইল্যান্ডে একটি বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় ব্যাংককের দক্ষিণাঞ্চলে প্যারাশুট প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় একটি ছোট বিমান সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নতুন এই দুর্ঘটনা থাই সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার পর চিয়াং মাই অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এমআর/টিকে