সর্বশেষ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে ৬৭ জন উচ্চপদস্থ নেতা হঠাৎ করেই স্বেচ্ছায় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন, যা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। একই সঙ্গে গত দু’দিনে আরও ৮৩ জন সাধারণ নেতাকর্মী দল ছাড়ায় পদত্যাগকারী নেতার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ জনে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সদর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য (পদত্যাগকারী) আতোয়ার হোসেন বাবুল সেখানে পদত্যাগকারীদের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন।
স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান ছোট বিজয়, মুন্সিগঞ্জ শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান অভি, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবর, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান খাঁন, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল, মিরকাদিম পৌর মহিলা দলের সদস্য সচিব, জিয়াসমিন আক্তার ময়না, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ, মুন্সিগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, আধারা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে উঠছিল। বারবার আপত্তি জানানো হলেও তা আমলে না নেয়ায় তারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আতোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, পদত্যাগের এই ঢেউ এখানেই থামবে না। আগামী দিনে আরও অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন গণপদত্যাগ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে। তবে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টিকে ‘সাময়িক অসন্তোষ’ হিসেবে দেখলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
ইউটি/টিএ