মুক্তির অপেক্ষায় আদ্যন্ত প্রেমের ছবি ‘মন মানে না’। ছবির প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নতুন জুটি ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়। সরস্বতী পুজোর দিনগুলোতে কলকাতার একাধিক স্কুল ও কলেজে ঘুরে দর্শকের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছেন, তা তাঁদের দু’জনকেই আশাবাদী করে তুলেছে। ঋত্বিকের কথায়, এই ছবি শুধু কলেজপড়ুয়া প্রেমের গল্প নয়, বরং পুরো পরিবারের দেখার মতো এক সম্পর্কের আখ্যান। স্কুলে গিয়ে যেমন শিক্ষকদের আগ্রহ পেয়েছেন, তেমনই অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়াও তাঁদের কাছে আলাদা করে ধরা দিয়েছে।
অফস্ক্রিন বন্ধুত্বই অনস্ক্রিন রসায়নের মূল শক্তি, এ কথা একবাক্যে মানছেন ঋত্বিক ও হিয়া। প্রথম শুটের দিন থেকেই তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়। হিয়ার কথায়, বন্ধুত্ব গড়তে আলাদা করে চেষ্টা করতে হয়নি, বরং একে অপরকে দেখেই মনে হয়েছিল বহুদিনের চেনা। সেই স্বচ্ছন্দ্যই ক্যামেরার সামনে ধরা দিয়েছে। শুটিং চলাকালীন সহশিল্পী সৌম্যের সঙ্গে হিয়ার ঝগড়াঝাঁটিও নাকি বন্ধুত্বেরই আর এক রূপ, যা সেটের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
বলিউডে কাজ করলেও বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে কেন রাজি হলেন ঋত্বিক, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট। ভাষার কোনও সীমারেখায় তিনি বিশ্বাস করেন না। বাংলা, হিন্দি বা অন্য ভাষা, ভালো গল্পই তাঁর কাছে মুখ্য। তাঁর মতে, আজকের দিনে আঞ্চলিক সিনেমা দর্শকের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেখানে বাংলা ছবিকেও আরও সাহসী হতে হবে। সেই জায়গা থেকেই ‘মন মানে না’-এর চিত্রনাট্য ও পরিচালকের ভাবনাই তাঁকে টেনেছে।
ছবির মূল সুর প্রেম। তবে সেই প্রেম কোনও হালকা আবেগ নয়। হিয়ার কাছে ভালোবাসা মানে নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে নির্ভয়ে নিজের কথা বলা যায়। ঋত্বিকের কাছে আবার ভালোবাসা মানে বাড়ি ফেরার অনুভব, কোনও ঘর নয়, বরং একজন মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার টান। এই দুই ভাবনার মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে ‘মন মানে না’-র সম্পর্কের ভাষা।
তারকা পরিবারের সন্তান হিসেবে হিয়ার উপর প্রত্যাশার চাপ ছিল স্বাভাবিক। তবে সেটে সহশিল্পী ও টিমের সহযোগিতায় সেই চাপ কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতাই তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। মুক্তির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই দু’জনের কণ্ঠে একটাই কথা, তাঁরা তাঁদের কাজ করেছেন, বাকি সিদ্ধান্ত দর্শকের।
আইকে/টিকে