চলচ্চিত্রে অনেক স্মরণীয় অভিনয় আসে, আবার কিছু মুহূর্ত ইতিহাস হয়ে যায়। কিক ছবির গান ‘হ্যাংওভার’-এ সালমান খানের কণ্ঠে গাওয়া অংশ তেমনই এক অনন্য উদাহরণ। মুক্তির এক দশক পেরিয়েও গানটি নিয়ে আলোচনা থামেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
হ্যাংওভার গানে মূল কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান খান। তাঁর সঙ্গে নেপথ্যে কণ্ঠ মিলিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। সুর ও সংগীতায়োজন ছিল মীত ব্রাদার্স অঞ্জনের। গানটির আবহ ছিল মোলায়েম ও রোমান্টিক, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর শব্দের ব্যবহার গানটিকে আলাদা রূপ দেয়। তবু এত কিছুর মাঝেও শ্রোতাদের নজর কাড়ে সালমান খানের কণ্ঠের আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি।
গানের একটি বিশেষ অংশে সালমানের আবেগপ্রবণ উচ্চারণ যেন পুরো গানটিকে নিজের করে নেয়। শ্রেয়া ঘোষালের মসৃণ ও পরিমিত কণ্ঠ যেখানে গানকে ভারসাম্য দেয়, সেখানে সালমান খান গানের প্রতিটি লাইনে নাটকীয় অনুভূতি ঢেলে দেন। অনেকের মতে, তিনি যেন গাইছেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে, সবটুকু উজাড় করে দিয়ে।
এই গানই প্রমাণ করে দেয়, শুধু কণ্ঠের কারিগরি দক্ষতাই সব নয়, তারকাখ্যাতি আর আবেগের মিশ্রণ অনেক সময় গানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। হ্যাংওভার ধীরে ধীরে ভক্তদের কাছে কাল্ট মর্যাদা পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি নিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য রসিকতা, উদ্ধৃতি আর অনুকরণ।
সংগীত বিশ্লেষকেরা আজও ব্যাখ্যা খোঁজেন, কীভাবে একটি রোমান্টিক গানে সালমান খান শ্রেয়া ঘোষালের উপস্থিতির মধ্যেও আলাদা হয়ে উঠলেন। তবে দর্শকদের কাছে উত্তরটা সহজ—এটাই হিন্দি সিনেমার জাদু, এটাই সালমান খান, আর এটাই হ্যাংওভার।
ইউটি/টিএ