কয়েকজনের কার্যকর ইনিংসে দুইশর কাছাকাছি পুঁজি পেল শ্রীলঙ্কা। রান তাড়ায় নড়বড়ে শুরুর পর, ইংল্যান্ডকে পথ দেখালেন জস বাটলার। পরে টম ব্যান্টনের ফিফটি ও হ্যারি ব্রুকের ক্যামিওতে জয়ের ধারা ধরে রাখল ইংলিশরা।
বৃষ্টিস্নাত তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ইংল্যান্ডের জয় ৬ উইকেটে। তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নিল তারা এক ম্যাচ হাতে রেখেই।
এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কা সবশেষ জিতেছিল ২০১৪ সালে। পাল্লেকেলেতে রোববার শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে করে ১৮৯ রান। জবাবে ইংল্যান্ড ৭.২ ওভারে ২ উইকেটে ৫৭ রান করার পর, বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।
আবার খেলা শুরু হলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ ওভারে ১৬৮। সফরকারীরা কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যায় দুই বল বাকি থাকতে। টি-টোয়েন্টিতে চার বছর পর ফিফটির দেখা পেয়ে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৩৩ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ব্যান্টন। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারে টানা তিনটি চার মেরে ডানা মেলে দেন পাথুম নিসাঙ্কা। পরের ওভারে তিনি ছক্কায় ওড়ান গতিময় পেসার জফ্রা আর্চারকে। একই ওভারে একটি ছক্কা মারেন কামিল মিশারাও।
প্রথম পাঁচ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে বিনা উইকেটে ৫৪ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নিসাঙ্কাকে (২২ বলে ৩৪) ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন আর্চার।দলকে এগিয়ে নেন এরপর মিশারা ও কুসাল মেন্ডিস। প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১০২।
পরের চার ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩০ বলে ৩৬ রান করেন মিশারা। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১৭ বলে ৩২ রান করেন মেন্ডিস। দাসুন শানাকা ভালো করতে পারেননি।
সেখান থেকে পাভান রাত্নায়েকে (২২ বলে ৪০) ও চারিথ আসালাঙ্কার (২২ বলে ২৮*) পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে ১৮৯ পর্যন্ত যেতে পারে স্বাগতিকরা। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই ফিল সল্টকে হারায় ইংল্যান্ড। তিন নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জ্যাকব বেথেলও।
পাঁচ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারানোর পর, দলকে এগিয়ে নেন জস বাটলার ও ব্যান্টন। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৭৬ বলে ১৩৩। আবার খেলা শুরু হলে নতুন লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজন পড়ে ৫৮ বলে ১১১।
এই ম্যাচ খেলতে নেমেই জেমস অ্যান্ডারসনকে (৪০১) ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের করে নেওয়া বাটলার (৪০২) ফেরেন ২৯ বলে ৩৯ রান করে।
ব্রুক উইকেটে গিয়েই দ্বিতীয় বলে চার মেরে শুরু করেন। তিনি পরপর চার ও ছক্কা মারেন মাথিশা পাথিরানাকে। আরেকটি ছক্কা মারেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। পাঁচ ওভারে দরকার যখন ৫১ রান, পাথিরানাকে পরপর দুটি ছক্কার পর আরেকটির চেষ্টায় আউট হয়ে যান ব্রুক। চারটি ছক্কা ও দুটি চারে ১২ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
স্যাম কারানকে নিয়ে বাকিটা সারেন ব্যান্টন। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেন তিনি ২৯ বলে। শেষ ওভারে জানিথ লিয়ানাগেকে ছক্কা মেরে ম্যাচের ইতি টানা কারান অপরাজিত রয়ে যান ১৪ বলে ২০ রানে।
একই মাঠে শেষ ম্যাচ হবে মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮৯/৫ (নিসাঙ্কা ৩৪, মিশারা ৩৬, মেন্ডিস ৩২, রাত্নায়েকে ৪০, শানাকা ১, আসালাঙ্কা ২৮*, লিয়ানাগে ১*; কারান ২-০-৩১-০, আর্চার ৪-০-৪২-২, জ্যাকস ৪-০-২৪-১, ডসন ৪-০-৩২-১, রাশিদ ৪-০-২৫-১, ওভারটন ২-০-৩০-০)
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৭ ওভারে ১৬৮) ১৬.৪ ওভারে ১৭৩/৪ (সল্ট ১, বাটলার ৩৯, বেথেল ১৩, ব্যান্টন ৫৪*, ব্রুক ৩৬, কারান ২০*; পাথিরানা ৪-০-৪৭-২, শানাকা ৩-০-২৪-১, ওয়েলালাগে ৩-০-৩০-১, মালিঙ্গা ১.২-০-৬-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪৪-০, লিয়ানাগে ১.২-০-১৮-০)
ফল: ইংল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: টম ব্যান্টন
এমআর/টিএ