অতীতের তিক্ততা থেকে বেরিয়ে ক্যারিয়ার নিয়েই মনোযোগী হয়েছিলেন অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাজেশ

বাবা দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা অভিনয় করতেন মঞ্চে। বড়পর্দার সঙ্গে যোগসূত্র থাকলেও কেরিয়ার গড়়তে কঠিন পথ পেরোতে হয়েছিল নায়িকাকে। এমনকি, আলোকচিত্রশিল্পীর কাছেও অশালীন প্রস্তাব পেয়েছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাজেশ।

১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্ম ঐশ্বরিয়া র। বাবা-মা এবং তিন ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি। শৈশবেই দুই ভাইকে হারান অভিনেত্রী। পিতৃহীনও হয়েছিলেন খুব কম বয়সে।

ঐশ্বরিয়া র বাবা রাজেশ ছিলেন তেলুগু অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও নাকি হাত দিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, রাজেশ একসময় অতিরিক্ত মদ্যপান করতে শুরু করেছিলেন। তার ফলে টাকাপয়সার হিসাবও রাখতেন না। সব টাকাই নাকি দান করে দিয়েছিলেন তিনি। রাজেশ মারা যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে অভাবের সংসারে দিন কাটাতেন ঐশ্বরিয়া ।

চেন্নাইয়ের স্কুল এবং কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন ঐশ্বরিয়া । বাণিজ্যে স্নাতক হওয়ার পর তাঁর কেরিয়ার বয়ে যায় অন্য খাতে। কলেজে পড়াকালীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসূত্রে নাচ শিখতে হয়েছিল ঐশ্বরিয়া কে।



এই সময়ে নাচের একটি রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন ঐশ্বরিয়া । ছোটপর্দার একটি রিয়্যালিটি শোয়ে সঞ্চালনার প্রস্তাব পান তিনি। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ঐশ্বরিয়া কে। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি।

১৯৯৫ সালে তেলুগু ভাষার একটি ছবিতে শিশু অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া । কিন্তু ২০১০ সাল থেকে পাকাপাকি ভাবে অভিনয় শুরু করেন তিনি। তেলুগু ভাষার ছবির পাশাপাশি তামিল এবং মালয়ালম ভাষার ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে।

দক্ষিণী বহু তারকার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই নাম জড়িয়ে পড়ে ঐশ্বরিয়া র। এমনকি, সমাজমাধ্যমেও নায়িকার বিয়ের সাজের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রসঙ্গে নায়িকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘আমারও জানতে ইচ্ছা করে যে, আমি কার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছি। কোনও ছবিতে বিয়ের দৃশ্যে অভিনয় করলে সেই ছবিই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমি এখনও সিঙ্গল।’’

ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, কলেজে পড়ার সময় এক তরুণের সঙ্গে পাঁচ-ছ’বছরের সম্পর্ক ছিল তাঁর। কিন্তু অভিনয়ে কেরিয়ার শুরু করার পরেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। নায়িকার দাবি, ক্রমাগত মতের অমিল হওয়ার কারণেই সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

নায়িকার দাবি, সম্পর্ক-ভালবাসাকে একসময় খুব ভয় পেতেন তিনি। অতীতে তিনি এমন এক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যে, তাঁর জীবন তিক্ত অভিজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিল। তাই বর্তমানে তিনি কেরিয়ার নিয়েই মনোযোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।



ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘‘আমি আমার কেরিয়ার নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, এখন প্রেম করার মতো কোনও রকম সময় নেই।’’ তবে পেশাগত জীবনে খুব খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন নায়িকা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই কথাই জানিয়েছেন তিনি।

ঐশ্বরিয়া জানান, ফোটোশুট করার জন্য এক আলোকচিত্রশিল্পীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর কম বয়স। রঙিন দুনিয়ার পিছনেও যে অন্ধকার থাকে, সে বিষয়ে অবগত ছিলেন না তিনি।

আলোকচিত্রশিল্পীর কাছে ঐশ্বরিয়া কে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। ভাইকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে আলোকচিত্রশিল্পীর ঘরে ঢুকেছিলেন নায়িকা। ঐশ্বরিয়া কে দেখেই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই আলোকচিত্রশিল্পী।

ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘‘আমি ঘরে ঢুকে ছবি তোলানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের পোশাক ধরিয়ে দেন আলোকচিত্রশিল্পী। তিনি বার বার আমায় পোশাক বদলে ফেলার জন্য জোর করতে থাকেন।’’

আলোকচিত্রশিল্পীর কথায় ঐশ্বরিয়া আপত্তি জানালে তিনি বলেছিলেন, ‘‘পোশাকটি পরে ফেলুন। আমি আপনার শরীর দেখতে চাই। আজকাল সবাই এ রকম করে।’’ আলোকচিত্রশিল্পীর কথা শুনে থতমত খেয়ে যান নায়িকা।

ঐশ্বরিয়া সেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমি তো তখন অনভিজ্ঞ ছিলাম। হয়তো আরও খানিক ক্ষণ আলোকচিত্রশিল্পীর সঙ্গে কথোপকথন চললে তিনি আমায় রাজি করিয়ে ফেলতেন। কিন্তু আমার মন সায় দিচ্ছিল না। হঠাৎ কী মনে হল, আমি ছলনার আশ্রয় নিলাম।’’

ঐশ্বরিয়া তখন আলোকচিত্রশিল্পীকে জানিয়েছিলেন যে, এই ধরনের পোশাক পরার আগে তাঁকে তাঁর ভাইয়ের অনুমতি নিতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
ঐশ্বরিয়া আরও বলেন, ‘‘তখন না হয় আমার উপস্থিত বুদ্ধি কাজ করেছিল। কিন্তু যাঁরা আমার মতো অনভিজ্ঞ, তাঁরা তো সেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজেকে সব সময় না-ও বাঁচাতে পারেন। এগুলো ভেবেই খারাপ লাগে।’’

অভিনয়ের পাশাপাশি গয়না প্রস্তুতকারী একটি সংস্থা চালান ঐশ্বরিয়া । সমাজমাধ্যমেও নিজস্ব অনুরাগীমহলও তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ৩৪ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আপিল বিভাগ থেকে বিএনপির তিন প্রার্থীর জন্য এলো সুখবর Feb 03, 2026
img
‘এর আগে সোনমকে এত সুন্দর লাগেনি’ Feb 03, 2026
img
শিক্ষার্থীরা সাতরাস্তা থেকে সরলেও কমেনি যানজট Feb 03, 2026
img
আমিরের জন্যে ঘুড়ি, গান আর বাঙালি খাবার সহ মুর্শিদাবাদে কী কী আয়োজন করলেন অরিজিৎ? Feb 03, 2026
img
বিএসইসির সাবেক কমিশনারসহ ২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা Feb 03, 2026
img
দামের ঝাঁঝেই চমকে দিচ্ছে মলাইকার রেস্তোরাঁ! Feb 03, 2026
img
আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড, বঙ্গভবনে যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল Feb 03, 2026
img
সাবেক সচিব শহীদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা Feb 03, 2026
img
ডিম্বাণু সংরক্ষণ বিতর্ক পেরিয়ে ফের আলোচনায় অভিনেতা রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা! Feb 03, 2026
img
কক্সবাজারে ৬১টি যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮০ Feb 03, 2026
img
হামলার আগে থেকেই চলছিল নজরদারি, পুলিশি তদন্তে বিশ্নোইয়ের পরিকল্পনা ফাঁস Feb 03, 2026
img
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেলেন সরকারি কলেজের ২০৬ শিক্ষক Feb 03, 2026
img
গাজীপুরে ৭ জনকে হত্যা, ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Feb 03, 2026
img
ওই হাসিমুখগুলোর কাছে দেওয়া আমার প্রতিশ্রুতিটা রাখতে হবে: জাইমা রহমান Feb 03, 2026
img
নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ভিসা আবেদনের তারিখ ঘোষণা Feb 03, 2026
img
সুযোগ পেতে নিজেকেই প্রযোজক বা পরিচালক হতে হয় : অমৃতা Feb 03, 2026
img
সাইফুল আলমের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ, জমি ক্রোক Feb 03, 2026
বেনিফিট যারা আমাকে ভোট দেবেন না, তারাও পাবেন Feb 03, 2026
রমজানকে সেরা মাস বানানোর কৌশল | ইসলামিক টিপস Feb 03, 2026
রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান বিএনপির Feb 03, 2026