ভারতীয় মূলধারার চলচ্চিত্রে সাহসী নির্মাণশৈলী ও বিতর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা এবং আদিত্য ধর- দুজনই আজ বিশেষভাবে আলোচিত নাম। ধরণ ও ভাবধারায় তারা ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় দুজনের মিল স্পষ্ট- ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, প্রচলিত নিয়ম ভাঙতে দ্বিধা করেন না এবং অনুমতির অপেক্ষা না করে নিজের মতো করেই সিনেমা নির্মাণে বিশ্বাসী।
সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা প্রথম বড় আলোচনায় আসেন ২০১৭ সালে ‘অর্জুন রেড্ডি’ নির্মাণের মাধ্যমে। কাঁচা, সহিংস এবং আবেগঘন প্রেমের গল্পে ভরা এই চলচ্চিত্র মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে যায়। একই গল্পের হিন্দি সংস্করণ ‘কবীর সিং’ নিয়েও তৈরি হয় সমান বিতর্ক ও আলোড়ন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিমাল’ আরও তীব্র সহিংসতা ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুর কারণে আলোচনা- সমালোচনার ঝড় তোলে, তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকেও ছিল দাপুটে। ভাঙ্গার নির্মাণশৈলীতে আবেগ, তীব্রতা এবং আপসহীন সৃজনশীল স্বাধীনতার ছাপ স্পষ্ট। বর্তমানে তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘স্পিরিট’ এবং আল্লু অর্জুনকে নিয়ে নতুন প্রকল্প ঘিরেও ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে।

অন্যদিকে আদিত্য ধর নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘উরি’ চলচ্চিত্র দিয়ে, যা মুক্তির পর দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাফল্য পায়। পরবর্তীতে ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি উচ্চঝুঁকির অ্যাকশন নাটকে নিজের দৃঢ়তা প্রমাণ করেন। নির্মমতা, সাহসী উপস্থাপনা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের সমন্বয়ে ছবিটি দর্শকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বি৬২ প্রোডাকশনের ব্যানারে এখন তিনি বাস্তবতানির্ভর দেশপ্রেমের গল্প নিজের শৈলীতে তুলে ধরছেন। তার আসন্ন কাজের তালিকায় রয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত ‘দ্য ইমমর্টাল অশ্বত্থামা’।
এই দুই নির্মাতাকে একসূত্রে বাঁধে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য- তাদের চলচ্চিত্রে তীব্র আবহসংগীত, সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে আপস না করার মানসিকতা, দীর্ঘ সময়ব্যাপী কাহিনি বিন্যাস এবং এমন গল্প বলা যা বিতর্ক তৈরি করলেও দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। ভালোবাসা বা সমালোচনা- দুটোই সমানভাবে তাদের ঘিরে থাকে, তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভাঙ্গা ও ধর বর্তমান ভারতীয় মূলধারার সিনেমাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন। সাহসী, বিতর্কিত এবং নির্ভীক- তাদের নির্মাণই আলোচনার সূচনা করে, আর সেই আলোচনাই শেষ পর্যন্ত সিনেমাকে জীবন্ত রাখে।
এসকে/এসএন