চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের খাজুরিয়া বাজারে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি মাছ প্রতীকের এমএ হান্নানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দু'পক্ষের অনন্ত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান ও তার সমর্থক ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন মাথায় ইটের আঘাত পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত অন্যরা হচ্ছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন (৪৫), জিসান আহমেদ (৩০), ধানের শীষের সমর্থক রাজু পাটোয়ারী (৩৬), মারুফ (২৮), এমরান হোসেন স্বপন (৪০) ও আব্দুল কাদের (৪০)।
তারা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেও অন্য আরো ৪ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এমন তথ্য জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল। তিনি জানান, বেশির ভাগই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন।
এছাড়া খাজুরিয়া ও রূপসা বাজারে আরো ৫ জন চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান অভিযোগ করেন, তিনি ওই এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালানোর সময় বাধার মুখে পড়েন। এসময় একদল লোক তাকে এবং তার সঙ্গীদের উপর হামলা করে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের সমর্থক।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচনী পরিবেশ যারাই অশান্ত করবে- তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বিকেলে খাজুরিয়া বাজারের পাশে হুগলি ও ষোলদানা গ্রামে গণসংযোগে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান। এসময় প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তেজনামূলক বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এই জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানকে দায়ী করেন, ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ।
রাত দশটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খাজুরিয়া বাজার, রূপসা বাজার, ফরিদগঞ্জ কলেজ গেইট এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন জানান, যেসব এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করেছ সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা টহল জোরদার করেছে।
তবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা নিয়ে রাতে কোনো পক্ষই থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেনি।
অন্যদিকে, হামলা-পাল্টা হামলার প্রতিবাদে উভয়পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল করে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
পিএ/টিএ