স্বপ্নের মতো এক বিগ ব্যাশ মৌসুম পার করে দেশে ফিরেছেন রিশাদ হোসেন। সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলেছেন তিনি। ১২ ম্যাচ খেলে মোট ১৫ উইকেট নিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। তবুও তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ তিনি। অদম্য টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে নিজেই জানালেন সেই অতৃপ্তির কারণ।
বিশ্বকাপে না খেলতে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখতে অদম্য টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে বিসিবি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচে তরুণদের দুরন্ত দলকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের আদলে গড়া ‘ধূমকেতু'’ দল। ধূমকেতুর জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন রিশাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ খেলে সদ্য দেশে ফেরা এই স্পিনার ৪ ওভার বল করে ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে জানান বিগ ব্যাশে প্রথমবার খেলতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা।
বাংলাদেশি হিসেবে বিগ ব্যাশে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিশাদ বলেন, ‘বিগ ব্যাশ আর বাংলাদেশের কন্ডিশন আলাদা, খেলার পরিবেশ একেবারেই আলাদা। ওগুলো চিন্তা করলে আমাদের তো এত কিছু হবে না। তবে যদি চিন্তা করি যে খেলার পরিবেশটা, আমার মনে হয় এটা আমাদের আরেকটু উন্নত করা সম্ভব। আর যদি বলেন হোটেল থেকে শুরু করে সবকিছু, সেটা এক এক দলের এক এক রকম পরিবেশ। আমার মনে হয় বাংলাদেশেও খারাপ না।’
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিশাদ বলেন, ‘ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটার হোক না কেন, ওরা অনেক সহজ-সরল। যে কাউকেই আরামসে অ্যাডজাস্ট করে ফেলে। বড়-ছোট কোনো কিছু দেখে না। এটা আমার ভালো লেগেছে এবং আমি চেষ্টা করব ওরকম হয়ে যাওয়ার। দক্ষতার দিক থেকে বলতে গেলে এটা তো সবার উনিশ-বিশ, মানসিকতা এবং ভালো পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি।’
বিগ ব্যাশে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। হোবার্টের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। দলটিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তোলার অন্যতম কারগরও এই লেগ স্পিনারই। তার অনবদ্য বোলিং দেখার জন্য বাংলাদেশ থেকেও টিভি পর্দায় চোখ রেখেছে লক্ষ-কোটি সমর্থক। প্রশংসা কুড়িয়েছেন সমর্থক থেকে শুরু করে অজি ধারাভাষ্যকার এবং বিশ্লেষকদের। তুবও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন রিশাদ। কারণ হিসেবে রিশাদ বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হলে সন্তুষ্ট হতাম।’
বছর দুয়েক আগেও জাতীয় দলে নিয়মিত সু্যোগ পেতেন না, আর এখন তারকা ক্রিকেটার। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিশাদ বলেন, ‘যখন খেলতে পারতাম না, তখনো ওটা আমার জন্য একটা লার্নিং ছিল। ওই সময়টা আমি অনেক কিছু এক্সপেরিয়েন্স করতে পারছি এবং নিজেকে গড়ে তুলতে পারছি।’
পিএ/টিএ