গাজায় রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুললেও নেই স্বস্তির চিত্র। মিশর থেকে ২০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গাজায় পৌঁছেছেন আরও ২৫ ফিলিস্তিনি। অসুস্থ ও আহতদের বিদেশে চিকিৎসায়ও ধীরগতি। এক সপ্তাহে ৫০ জনের পরিবর্তে পাঠানো হয়েছে অন্তত ৩০ জন। অব্যাহত আছে ইসরাইলি হামলাও।
এমন পরিস্থিতিতে, আগামী মার্চে আবারও গাজার উদ্দেশে শতাধিক নৌযান নিয়ে যাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজাবাসীর ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। যুদ্ধবিরতি ছাপিয়ে কখনো ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন, কখনো বোমা অথবা গুলিতে রক্ত ঝরছে গাজার মাটিতে। বৃহস্পতিবারও (৫ ফেব্রুয়ারি) উপত্যকাটিতে হামলা চালায় দখলদাররা। খান ইউনিসের বানি সুহাইলা এলাকায় গুলিতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হন।
একই দিনে দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় বিমান হামলা, গুলি ও ভারী গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে দীর্ঘদিন পর আংশিকভাবে চালু হওয়া রাফাহ ক্রসিং দিয়ে আরও ২৫ ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন। মিশরের এল আরিশ থেকে যাত্রা শুরু করে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর তারা খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছান। এসময় ইসরাইলি নিরাপত্তা চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান ও কঠোর আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার কথা থাকলেও তুলনামূলক কম সংখ্যক রোগীকে যেতে দেয়া হচ্ছে। চুক্তিতে প্রতিদিন ৫০ জন রোগী পাঠানোর কথা থাকলেও এ সপ্তাহে পাঠানো হয়েছে মাত্র প্রায় ৩০ জন।
আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, এই গতিতে চললে প্রায় ২০ হাজার রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বছর লেগে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সাহায্য পৌঁছাতে আবারও শতাধিক নৌযান নিয়ে নতুন মিশনের ঘোষণা দিয়েছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।
আয়োজকরা জানান, আগামী মাসে শতাধিক নৌযানে করে প্রায় এক হাজার কর্মী গাজার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ওই দলে চিকিৎসকের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরাও থাকবেন।
এর আগে গত অক্টোবরে গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা এই ফ্লোটিলার প্রায় ৪০টি নৌযান জব্দ এবং ৪৫০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি বাহিনী।
এমআর/টিকে