চট্টগ্রামে যুবলীগ কর্মী খুন, ১০ দিনেও হয়নি মামলা

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবলীগ কর্মী মো. হাসান (৪০) খুনের ঘটনায় গত ১০ দিনেও থানায় মামলা হয়নি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসানকে।

উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীহাট এলাকায় ওই দিন রাত ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হত্যার ঘটনায় মামলা করার জন্য স্বজনদের বারবার তাগাদা দিয়েও রাজি করানো যাচ্ছে না।

নিহতের স্ত্রী ঝিনু আকতার বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আমার স্বামী হাসান ভয়ে ঘরে আসেনি। বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে বাড়িতে আসেন। এতে সন্ত্রাসীরা খবর পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে আমার ঘরে হামলা চালায়। হাসান খাটের নিচে লুকিয়ে ছিল। ঘরের দরজা ভেঙে সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। আমি অনেক বাধা দিয়েছি, তারা কোনও কথা শোনেনি। রাতে খবর পেয়ে পলোয়ানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসান একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পড়ে আছে। সে মরে গেছে মনে করে সন্ত্রাসীরা সিএনজির ভেতর ফেলে চলে গেছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে কারা ঘর থেকে তুলে নিয়ে গেছে, কারা মেরেছে, তা এলাকার সবাই জানে। মানুষের চোখের সামনে সব ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ১০ দিন পার হয়েছে অথচ পুলিশ একজন হত্যাকারীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলা করলেও যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে তার নিশ্চয়তা কী? এ কারণে আমরা মামলা করছি না। আমার স্বামী হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।’
নিহত হাসান রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আহমেদ হোসেন মেম্বার বাড়ির মো. বজল আহমেদ ড্রাইভারের ছেলে।

এর আগে, গত ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আসদ আলী মাতব্বরপাড়া এলাকায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডেও মামলা করতে চায়নি পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ-র‌্যাবের অনুরোধে প্রায় ১১ দিনের মাথায় ৩ ফেব্রুয়ারি রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মাকসুদ আলম। মামলা করার এক মাস হতে চলেছে এরই মধ্যে রমজান আলী নামে বিএনপির এক সাবেক চেয়ারম্যানকে এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

নিহতের ভাই মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘আমরা মামলা করতে চাইনি। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর থানায় মামলা করেছি। এর আগে পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করেনি। মামলা করার এক মাস পার হতে চলেছে এরই মধ্যে একজনমাত্র আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অথচ প্রকাশ্যে দিনদুপুরে আমার নিরীহ ভাইকে খুন করা হয়েছে। কারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে তা পুরো গ্রামবাসী এবং পুলিশ প্রশাসন জানে। এরপরও রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না। হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না বলেই নোয়াপাড়াসহ রাউজানে খুনসহ অপরাধ বাড়ছে।’
নিহত জাহাঙ্গীর নগরীর আসাদগঞ্জের পাইকারি শুঁটকি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবু সৈয়দ মেম্বারের ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়েসন্তানের বাবা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘হাসান নিহতের ঘটনায় এখনও থানায় মামলা হয়নি। আমরা পরিবারের সদস্যদের বারবার অনুরোধ করেছি যাতে মামলা করে। তাদের মামলা করাতে রাজি করা যাচ্ছে না। অপরদিকে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় রমজান আলী নামে এক সাবেক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বলে তথ্য পেয়েছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।’

Share this news on:

সর্বশেষ