রাজশাহীতে জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিল, চরম উত্তেজনা

রাজশাহীর বাঘায় উপজেলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পরদিন পাল্টা মিছিল করেছে বিএনপি। ওই মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়ার স্লোগান দেন। এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বাঘা উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বাঘা পেট্রোলপাম্প থেকে শুরু হওয়া একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বাঘা বাজারে এসে পূর্ব নির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সেই প্রতিবাদ সমাবেশে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে বিএনপি কর্তৃক জামাত-শিবির এর পাঁচ নেতাকর্মীর উপর হামলা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংটুর এবং লুটপাটসহ মোটর সাইকেলে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ জানান জামায়াত নেতারা । সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনের নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর এই মিছিল করার একদিন পর বুধবার দুপুর সাড়ে সাড়ে ১২টার দিকে বাঘা উপজেলা ও বাঘা পৌর বিএনপির উদ্যোগে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে তারা জামায়াতকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে স্লোগা দেওয়া হয়, ‘হই হই, রই রই জামায়াত-শিবির গেলি কই। ৭১ এর রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।’

বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উপজেলা আম চত্বরে আমরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে প্রতিবাদ জানিয়েছি। গত রোববার মাগরিব নামাজের পর জামায়াতের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাউসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ মন্ডলকে কুপিয়ে জখম করেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আলী বলেন, বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সেবাগ্রহীতারা ইউনিয়ন পরিষদের কর্তা ব্যক্তিদের দ্বারা বিভিন্ন ধরনের অন্যায় দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। এর প্রতিবাদে ২০ মার্চ মানববন্ধন করায় সেখানে অতর্কিত হামলা করা হয়। এর জের ধরে ৩০ মার্চ বাউসা ইউনিয়নের ১ নম্বর দীঘা ওয়ার্ড ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি সৌরভ আহম্মেদের উপর হামলা করা হয়। এবং শিবির কর্মী মারুফ হোসেন, মুন্না আলী ও ফয়সাল হোসেনকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যখম করা হয়।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আসাদুজ্জামান বলেন, বাউসার ঘটনায় জামাত-বিএনপির দ্বন্দ্বে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তাধীন। তবে কোনো দল যদি রাস্তায় তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে মিছিল মিটিং করে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত এবং জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে পুলিশ তখনই আইনি ব্যবস্থা নেবে।

আরএ/টিএ

Share this news on: