ক্রিকেটাররা মাঠে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মাতেন, আর ধারাভাষ্যকাররা সেই উত্তেজনা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেন। আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগগুলোর একটি, যেখানে মাঠের তারকাদের পাশাপাশি ধারাভাষ্য বক্সেও জ্বলজ্বল করেন কিংবদন্তিরা।
সুনীল গাভাস্কার, রবি শাস্ত্রী, রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেইডেনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা ধারাভাষ্যের দায়িত্ব পালন করেন, আর এই কাজের জন্য তারা পান মোটা অঙ্কের সম্মানি। ধারাভাষ্যের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের আয়ও হয় চমকপ্রদ, যা আইপিএলের বাণিজ্যিক সফলতারই আরেকটি দিক তুলে ধরে।
কত টাকা পান ধারাভাষ্যকাররা?
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া এক পডকাস্টে জানিয়েছেন, আইপিএলে ধারাভাষ্যের জন্য ধারাভাষ্যকারদের পারিশ্রমিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে।
জুনিয়র ধারাভাষ্যকাররা প্রতিদিন পান প্রায় ৩৫-৪০ হাজার রুপি।
অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকারদের দৈনিক আয় ৬-১০ লাখ রুপি।
সাধারণত একজন ধারাভাষ্যকার আইপিএল মৌসুমে প্রায় ১০০ দিন ধারাভাষ্য দিয়ে থাকেন, যার ফলে তাদের বার্ষিক আয় ৬-১০ কোটি রুপি হয়ে থাকে।
জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারদের আয়
বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আইপিএলে ধারাভাষ্য থেকে কয়েকজন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারের বার্ষিক আয় নিম্নরূপ-
রবি শাস্ত্রী- ১.৬৭ কোটি রুপি।
সুনীল গাভাস্কার- ২.৩৫ কোটি রুপি (আইপিএলে) ও ৫৭ লাখ রুপি (আন্তর্জাতিক সিরিজে)।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকার- ৬ কোটি রুপি (আইপিএল ও আন্তর্জাতিক সিরিজ মিলিয়ে)।
হার্ষা ভোগলে- ৫.৫ কোটি রুপি (প্রতি সিরিজে আয় ৩২ লাখ রুপি)।
নতুনদের আগ্রহ
সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন ধারাভাষ্যকাররাও আইপিএলের কমেন্ট্রি বক্সে জায়গা করে নিচ্ছেন। শিখর ধাওয়ান ও আম্বাতি রায়ডুর মতো সদ্য ক্রিকেট ছাড়া খেলোয়াড়রাও ধারাভাষ্যে যুক্ত হয়েছেন। তাদের পারিশ্রমিকও অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে।
ক্রিকেটবিশ্বে ধারাভাষ্যকারদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, আর তাদের পারিশ্রমিকও সেই অনুযায়ী বাড়ছে। আইপিএল ধারাভাষ্যের মাধ্যমে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের জন্য বিশাল অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
এসএস