বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.১১% কমে প্রতি ব্যারেল ৬৯.৬২ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৭.৮০% কমে ৬৬.১২ ডলারে নেমে এসেছে।
এই পতনের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ ঘোষণা এবং ওপেক দেশগুলোর তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের এই ট্যারিফ নীতি বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধকে তীব্র করতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও তেলের চাহিদাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
অন্যদিকে, ওপেক+ দেশগুলো তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দৈনিক উৎপাদন ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগের পরিকল্পনার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত বেড়ে যাওয়াও দাম কমার একটি বড় কারণ। মার্কিন শক্তি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে যে গত সপ্তাহে দেশটির তেলের মজুত ৬.২ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজার অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ইউবিএস ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ সালের জন্য তাদের তেলের দামের পূর্বাভাস সংশোধন করে ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার কমিয়েছে। পিভিএমের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা সতর্ক করেছেন যে ট্যারিফ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে বাজারে মন্দা ও স্থিতিশীলতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
এফপি/এসএন