ট্রাম্পের শুল্কনীতি কি ভারতে অর্থনৈতিক সংস্কারের নতুন সূচনা করবে?

কঠিন সঙ্কটে পড়লেই, সাধারণত দেখা গেছে, ভারত অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে ঝুঁকেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ১৯৯১ সালে দেশটি যখন গভীর আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি পড়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পথে হেঁটেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একতরফাভাবে শুল্ক হার ঘোষণা করে দিয়েছেন, এরপরেই বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্যে একটা উথালপাথাল শুরু হয়ে গেছে।

এই সময়ে অনেকে মনে করছেন যে ভারত আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি তার সংরক্ষণ-বাদ ঝেড়ে ফেলে তার অর্থনীতিকে আরও উদার করে দেবে? তিন দশক আগে তারা যেমন করেছিল, সেভাবেই কি ভারত এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করবে না কি তারা আরও পশ্চাদপসরণ করবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার ভারতকে 'শুল্কের মহারাজ' এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'বড় অপ-ব্যবহারকারী' বলে অভিহিত করে আসছেন। সমস্যা হলো 'ট্রেড ওয়েটেড ইম্পোর্ট ডিউটি' অর্থাৎ আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যের গড় শুল্ক – বিশ্বের যেসব দেশে সর্বোচ্চ, ভারত সেগুলির অন্যতম। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে গড় শুল্ক ২.২ শতাংশ, চীনে তিন শতাংশ আর জাপানে ১.৭ শতাংশ, সেখানে ভারতে গড় শুল্ক ১২ শতাংশ।

উচ্চ হারের শুল্ক বৈশ্বিক 'ভ্যালু-চেইনের' ওপরে নির্ভরশীল সংস্থাগুলির ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাধা পায়।

এর আরেকটা অর্থ হলো যে অন্যান্য দেশের উপভোক্তাদের তুলনায় ভারতীয়রা আমদানি করা পণ্য কিনতে বেশি খরচ করেন।

যদিও রপ্তানি ক্রমেই বাড়ছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো পরিষেবা রপ্তানি, তবু ভারতের গুরুতর বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী রপ্তানিতে ভারতের অংশ মাত্র ১.৫ শতাংশ, তাই সমস্যাটার মোকাবেলা করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

এসএম/এসএন

Share this news on: