প্রায় তিনশ ছোঁয়া লক্ষ্য তাড়ায় ১৬১ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে প্রায় একা টানছিলেন সিকান্দার রাজা। শেষ ওভারে যখন আর মাত্র ১০ রান দরকার, তখনই ঘুরে গেল মোমেন্টাম। দিলশান মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে অভূতপূর্বভাবে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফেরে। যা ম্লান করে দিয়েছে রাজার ৯২ রানের ইনিংস। ফলে ৭ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল লঙ্কানরা।
হারারেতে আগে ব্যাট করতে নেমে সফরকারী শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৮ রান তোলে। তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ পাথুম নিশাঙ্কা সর্বোচ্চ ৭৬, জানিথ লিয়ানাগে ৭০ ও কামিন্দু মেন্ডিস ৫৭ রান করেছেন। লক্ষ্য তাড়ায় রাজা কক্ষপথে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু থামতে হয়েছে ২৯১-তে। শেষের সমীকরণ মেলাতে না পারা দলটির হয়ে এই তারকা অলরাউন্ডারের ৯২ ছাড়াও বেন কারান ৭০ ও শন উইলিয়ামস ৫৭ ও টনি মুনিয়ঙ্গা ৪৩ রান করেন। মাদুশঙ্কা ৪ ও আসিথা ফার্নান্দো নেন ৩ উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা দলীয় মাত্র ৯ রানে ওপেনার নিশান মাদুশকাকে হারায়। অবশ্য কুশল মেন্ডিস ও পাথুম নিশাঙ্কার ১০০ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা সামাল দেয় লঙ্কানরা। কুশল ৬৩ বলে ৩৮ রান এবং ৬৫ বলে ফিফটি করা নিশাঙ্কা ফেরেন ৭৬ রানে। ৯২ বলের ইনিংসে তিনি ১২টি চার হাঁকান। মাঝে ক্রিজে থিতু হয়েও সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হয়ে যান ৩৫ রানে। লঙ্কানদের বড় পুঁজির ভিতটা গড়ে লিয়ানাগে-কামিন্দুর ষষ্ঠ উইকেটে। দুজন মিলে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন।
কামিন্দু-লিয়ানাগে দ্রুত গতিতে রান বাড়ানোয় মনোযোগ দেন। যা লঙ্কানদের প্রায় তিনশ ছোঁয়া পুঁজি এনে দেয়। ৪৮তম ওভারে ঝড় তুলে ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান। কামিন্দু ৩০ বলে ও লিয়ানাগে ৩৯ বলে পৌঁছান পঞ্চাশের ঘরে। ইনিংসের শেষ বলে কামিন্দুর বিদায়ে ভাঙে তাদের ৮৩ বলে ১৩৭ রানের জুটি। এর আগে তিনি ৩৬ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৭ রান করেন। অপরাজিত লিয়ানাগে ৪৭ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৭০ রান। স্বাগতিক রোডেশিয়ানদের পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন রিচার্ড এনগারাবা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই আউট জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। তাকে প্রথম বলে বিদায় করা আসিথা ফার্নান্দো দুই বল পর ব্রেন্ডন টেইলরকেও ড্রেসিংরুমে পাঠান। এই অভিজ্ঞ তারকা এদিন ওয়ানডেতে ফিরেছিলেন ৪ বছর পর। এরপর স্বাগতিক অধিনায়ক শন উইলিয়ামস ও বেন কারান মিলে গড়েন ১১৮ রানের কার্যকর জুটি। ৫৪ বলে ২ ছক্কা ও ৭ চারে ৫৭ রান করা উইলিয়ামসের বিদায়ে সেই জুটি ভাঙে। এরপর কারানও ৯০ বলে ৮টি চারের বাউন্ডারিতে ৭০ রানে ফেরেন।
মাঝে ওয়েসলি মাধেভেয়ার দ্রুত ফিরলে মুনিয়োঙ্গাকে নিয়ে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে ছোটেন রাজা। ১১৮ রানে সেই জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই নিভে যায় জিম্বাবুয়ের আশা। শেষ ওভারের প্রথম তিন বলেই রাজা, ব্র্যাড ইভান্স ও এনগারাবাকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেন মাদুশঙ্কা। ৮৭ বলে ৮ চারে ৯২ রান করেন রাজা এবং মুনিয়োঙ্গা অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ৪৩ রানে।
এমকে/এসএন