• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

ফিদেল কাস্ত্রো : এক বিপ্লবী মহানায়ক

ফিদেল কাস্ত্রো : এক বিপ্লবী মহানায়ক

ফিচার ডেস্ক০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ফিদেল কাস্ত্রো। কিউবার বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ অর্থনীতির কঠোর সমর্থক। মার্কিন পুঁজিবাদের ঘোর বিরোধী।

কিউবায় ঐতিহাসিক কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিদেল কাস্ত্রো। যা দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

শিক্ষা, সামাজিক মুল্যবোধ ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

তবে তার শাসনামলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিপীড়ন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও অর্থনৈতিক মন্দার জন্য অনেকে কিউবা দেশ পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এজন্যে অনেকে তার সমালোচনা করেছেন।

১৯২৫ সালের ১৩ আগস্ট কিউবার অরিয়েন্ট প্রদেশের বিরেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফিদেল কাস্ত্রো।

১৯৪৫ সালে তিনি কিউবার হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভর্তি হন। এ সময় তিনি রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সামরিক নেতা বাতিস্তার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জান্তা সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি সাম্যবাদী বামপন্থী দল “পার্টি অফ দ্য কিউবান পিপল” এ যোগ দেন। এ দলটি কিউবার জান্তা সরকারের ঘোর বিরোধী ছিল এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

পড়াশোনা শেষ করে তিনি ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র এবং কলাম্বিয়ায় সরকারবিরোধী বিদ্রোহে অংশ নিয়েছেন।

ভ্রমণকালে তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অনুপ্রাণিত হন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

কিউবার জান্তা সরকারের বিরোধীদের উৎসাহ দিতে ১৯৫২ সালে তিনি “ইতিহাস আমাকে ক্ষমা করবে” শীর্ষক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ৫টি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেন।

এগুলো হলো- ১৯৪০ সালের কিউবার সংবিধান পুনর্বহাল, ভূমি অধিকার আইনের সংস্কার, কোম্পানির মুনাফার ৩০ শতাংশ শিল্প শ্রমিকদের প্রদান, চিনি শিল্প শ্রমিকদের কোম্পানির মুনাফার ৫৫ শতাংশ প্রদান এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ।

এরপর ডানপন্থী বাতিস্তার নেতৃত্বাধীন কিউবার জান্তা সরকারকে উৎখাত করতে তিনি ১৯৫৩ সালে মোনকাদা ব্যারাকে আক্রমণ করেন। কিন্তু তার আক্রমণ ব্যর্থ হয় এবং তিনি ধরা পড়ে যান। বিদ্রোহের অভিযোগে এক বছর কারাবরণ করেন তিনি।

কারাগারে থাকাকালে মার্কসবাদ চর্চার লক্ষ্যে “২৬ জুলাই আন্দোলন” প্রতিষ্ঠা করেন।

মুক্তির পর তিনি মেক্সিকো চলে যান। সেখানে মার্কসবাদ-লেলিনবাদ প্রতিষ্ঠায় লড়াইরত আরেক বিপ্লবী চে-গুয়েরার সাথে যোগ দেন। এখান থেকেই তিনি কিউবার বিদ্রোহীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিতে থাকেন।

ধীরে ধীরে কিউবায় বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকে। অবশেষে ১৯৫৯ সালে প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে পতন হয় বাতিস্তা সরকারের। ফিদেল কাস্ত্রো নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

একটি পূর্নাঙ্গ কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার করেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করেন।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভূমি ক্রয় নিষিদ্ধ করেন। দুই লক্ষ কৃষককে ভূমির মালিকানা প্রদান করেন।

গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি নির্বাচন দেননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন তার প্রতি কিউবান জনগণের সমর্থন রয়েছে। তবে তিনি সকল প্রকার বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে দেন এবং সরকার বিরোধীদের গ্রেফতার করেন।

১৯৫৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। তবে কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিউবার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিনি কিউবায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে কঠোরতা আরোপ করেন।

এতে আমেরিকাও কিউবার উপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে কাস্ত্রো সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক গভীর করেন।

সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে কিউবার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। তাই কিউবায় ব্যাপক অর্থনৈতিক সাহায্য দেয় রাশিয়া। আর কাস্ত্রো সমাজতন্ত্রের কট্টর সমর্থক হয়ে ওঠেন।

কাস্ত্রো বলতেন, “জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ লালন করে যাবো”।

কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশী দেশ কিউবার এমন উত্থানে ভীত হয়ে ওঠে আমেরিকা। তাই একের পর এক কিউবার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে। কিউবায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করায় ফিদেল কাস্ত্রো জনগণের কাছে ছিলেন এক মহানায়ক।

১৯৬২ সালে কাস্ত্রোর নির্দেশে কিউবার মার্কিন সীমান্তের নিকটবর্তী সীমানায় অস্ত্র মোতায়েন করে রাশিয়া। এতে ভয়াবহ সামরিক সংকট দেখা দেয় যা “মিসাইল সংকট” নামে পরিচিত।

জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টের প্রচেষ্টায় আরেকটি বিশ্ব যুদ্ধ থেকে বেঁচে যায় বিশ্ব।

কাস্ত্রো বিশ্বব্যাপী বিপ্লব-সংগ্রাম ছড়িয়ে দিতে বিশ্বাসী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে অ্যাঙ্গোলা, লিবিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিল্পবীদের সমর্থন দিতে কিউবান সেনা পাঠিয়েছেন।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট প্রশ্নে তিনি সবসময় ফিলস্তিনের পক্ষে ছিলেন।

১৯৮০ সালে কিউবায় অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তার জনপ্রিয়তা কমে যায়।

১৯৯০’র দশকে কিউবা এবং বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কিছু সফল উদ্যোগ নেন কাস্ত্রো।

কাস্ত্রো নিজেকে একজন নাস্তিক দাবী করেন এবং খ্রীষ্টান ধর্মের বৈষম্যের সমালোচনা করেন।

২০০৮ সালে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা দিয়ে অবসরে যান কাস্ত্রো। রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকলেও কিউবায় তার প্রভাব কমেনি।

অবশেষে ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর মারা যান ইতিহাসের এই বিপ্লবী মহানায়ক।

পশ্চিমাদের দ্বারা সমালোচিত হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় নেতা।

 

রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, সমাধান তাদেরকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, সমাধান তাদেরকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ

করোনায় আরও ৩৬ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১১০৬

করোনায় আরও ৩৬ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১১০৬

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৬ জনের

বেসরকারিতে করোনা পরীক্ষা, ৩২ জনকে রেখেই সৌদি গেল বিমান

বেসরকারিতে করোনা পরীক্ষা, ৩২ জনকে রেখেই সৌদি গেল বিমান

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা করে সনদ নিয়ে আসায় ৩২ জনকে

জাতীয়

রাজধানীতে স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীতে স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ২

রাজধানী ঢাকায় মুমূর্ষু স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। এ ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

জাতীয়

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: ঘটনা তদন্তে কমিটি, ২ গার্ড বরখাস্ত

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: ঘটনা তদন্তে কমিটি, ২ গার্ড বরখাস্ত

সিলেটের মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজে ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জাতীয়

অতিরিক্ত সচিব হলেন ৯৮ কর্মকর্তা

অতিরিক্ত সচিব হলেন ৯৮ কর্মকর্তা

প্রশাসনের উর্ধ্বতন পর্যায়ে অতিরিক্ত সচিব পদে ৯৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। দুটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে ৯৮ জন যুগ্মসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে।

আইন আদালত

স্কুলছাত্রী নীলা হত্যা: প্রধান আসামি মিজানুর সাত দিনের রিমান্ডে

স্কুলছাত্রী নীলা হত্যা: প্রধান আসামি মিজানুর সাত দিনের রিমান্ডে

ঢাকার সাভারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলা রায়কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমানের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

জাতীয়

ডোপ টেস্টে পজিটিভ: চাকরি হারাচ্ছেন ২৬ পুলিশ সদস্য

ডোপ টেস্টে পজিটিভ: চাকরি হারাচ্ছেন ২৬ পুলিশ সদস্য

ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় ২৬ পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

জাতীয়

সেফটি পিনের চেইন বানিয়ে গিনেস বুকে বাংলাদেশের পার্থ

সেফটি পিনের চেইন বানিয়ে গিনেস বুকে বাংলাদেশের পার্থ

সেফটি পিন দিয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চেইন বানিয়ে গিনেস বুকে নাম লেখালেন বাংলাদেশী পার্থ চন্দ্র দেব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি একই গ্রামের মৃত জগদীশ চন্দ্র দেবের ছেলে।