• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

ফিদেল কাস্ত্রো : এক বিপ্লবী মহানায়ক

ফিদেল কাস্ত্রো : এক বিপ্লবী মহানায়ক

ফিচার ডেস্ক০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ফিদেল কাস্ত্রো। কিউবার বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ অর্থনীতির কঠোর সমর্থক। মার্কিন পুঁজিবাদের ঘোর বিরোধী।

কিউবায় ঐতিহাসিক কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিদেল কাস্ত্রো। যা দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

শিক্ষা, সামাজিক মুল্যবোধ ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

তবে তার শাসনামলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিপীড়ন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও অর্থনৈতিক মন্দার জন্য অনেকে কিউবা দেশ পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এজন্যে অনেকে তার সমালোচনা করেছেন।

১৯২৫ সালের ১৩ আগস্ট কিউবার অরিয়েন্ট প্রদেশের বিরেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফিদেল কাস্ত্রো।

১৯৪৫ সালে তিনি কিউবার হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভর্তি হন। এ সময় তিনি রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সামরিক নেতা বাতিস্তার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জান্তা সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি সাম্যবাদী বামপন্থী দল “পার্টি অফ দ্য কিউবান পিপল” এ যোগ দেন। এ দলটি কিউবার জান্তা সরকারের ঘোর বিরোধী ছিল এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

পড়াশোনা শেষ করে তিনি ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র এবং কলাম্বিয়ায় সরকারবিরোধী বিদ্রোহে অংশ নিয়েছেন।

ভ্রমণকালে তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অনুপ্রাণিত হন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

কিউবার জান্তা সরকারের বিরোধীদের উৎসাহ দিতে ১৯৫২ সালে তিনি “ইতিহাস আমাকে ক্ষমা করবে” শীর্ষক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ৫টি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেন।

এগুলো হলো- ১৯৪০ সালের কিউবার সংবিধান পুনর্বহাল, ভূমি অধিকার আইনের সংস্কার, কোম্পানির মুনাফার ৩০ শতাংশ শিল্প শ্রমিকদের প্রদান, চিনি শিল্প শ্রমিকদের কোম্পানির মুনাফার ৫৫ শতাংশ প্রদান এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ।

এরপর ডানপন্থী বাতিস্তার নেতৃত্বাধীন কিউবার জান্তা সরকারকে উৎখাত করতে তিনি ১৯৫৩ সালে মোনকাদা ব্যারাকে আক্রমণ করেন। কিন্তু তার আক্রমণ ব্যর্থ হয় এবং তিনি ধরা পড়ে যান। বিদ্রোহের অভিযোগে এক বছর কারাবরণ করেন তিনি।

কারাগারে থাকাকালে মার্কসবাদ চর্চার লক্ষ্যে “২৬ জুলাই আন্দোলন” প্রতিষ্ঠা করেন।

মুক্তির পর তিনি মেক্সিকো চলে যান। সেখানে মার্কসবাদ-লেলিনবাদ প্রতিষ্ঠায় লড়াইরত আরেক বিপ্লবী চে-গুয়েরার সাথে যোগ দেন। এখান থেকেই তিনি কিউবার বিদ্রোহীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিতে থাকেন।

ধীরে ধীরে কিউবায় বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকে। অবশেষে ১৯৫৯ সালে প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে পতন হয় বাতিস্তা সরকারের। ফিদেল কাস্ত্রো নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

একটি পূর্নাঙ্গ কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার করেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করেন।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভূমি ক্রয় নিষিদ্ধ করেন। দুই লক্ষ কৃষককে ভূমির মালিকানা প্রদান করেন।

গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি নির্বাচন দেননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন তার প্রতি কিউবান জনগণের সমর্থন রয়েছে। তবে তিনি সকল প্রকার বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে দেন এবং সরকার বিরোধীদের গ্রেফতার করেন।

১৯৫৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। তবে কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিউবার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিনি কিউবায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে কঠোরতা আরোপ করেন।

এতে আমেরিকাও কিউবার উপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে কাস্ত্রো সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক গভীর করেন।

সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে কিউবার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। তাই কিউবায় ব্যাপক অর্থনৈতিক সাহায্য দেয় রাশিয়া। আর কাস্ত্রো সমাজতন্ত্রের কট্টর সমর্থক হয়ে ওঠেন।

কাস্ত্রো বলতেন, “জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ লালন করে যাবো”।

কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশী দেশ কিউবার এমন উত্থানে ভীত হয়ে ওঠে আমেরিকা। তাই একের পর এক কিউবার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে। কিউবায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করায় ফিদেল কাস্ত্রো জনগণের কাছে ছিলেন এক মহানায়ক।

১৯৬২ সালে কাস্ত্রোর নির্দেশে কিউবার মার্কিন সীমান্তের নিকটবর্তী সীমানায় অস্ত্র মোতায়েন করে রাশিয়া। এতে ভয়াবহ সামরিক সংকট দেখা দেয় যা “মিসাইল সংকট” নামে পরিচিত।

জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টের প্রচেষ্টায় আরেকটি বিশ্ব যুদ্ধ থেকে বেঁচে যায় বিশ্ব।

কাস্ত্রো বিশ্বব্যাপী বিপ্লব-সংগ্রাম ছড়িয়ে দিতে বিশ্বাসী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে অ্যাঙ্গোলা, লিবিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিল্পবীদের সমর্থন দিতে কিউবান সেনা পাঠিয়েছেন।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট প্রশ্নে তিনি সবসময় ফিলস্তিনের পক্ষে ছিলেন।

১৯৮০ সালে কিউবায় অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তার জনপ্রিয়তা কমে যায়।

১৯৯০’র দশকে কিউবা এবং বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কিছু সফল উদ্যোগ নেন কাস্ত্রো।

কাস্ত্রো নিজেকে একজন নাস্তিক দাবী করেন এবং খ্রীষ্টান ধর্মের বৈষম্যের সমালোচনা করেন।

২০০৮ সালে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা দিয়ে অবসরে যান কাস্ত্রো। রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকলেও কিউবায় তার প্রভাব কমেনি।

অবশেষে ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর মারা যান ইতিহাসের এই বিপ্লবী মহানায়ক।

পশ্চিমাদের দ্বারা সমালোচিত হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় নেতা।

 

ভারতের চাপানো শর্তে পার্বতীপুর-কাউনিয়া ডুয়ালগেজ লাইনে অচলাবস্থা

ভারতের চাপানো শর্তে পার্বতীপুর-কাউনিয়া ডুয়ালগেজ লাইনে অচলাবস্থা

‘আমি এই প্রকল্পে নতুন। এখনও আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সাবেক

ঘন কুয়াশায় চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি: রেলওয়ে মহাপরিচালক

ঘন কুয়াশায় চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি: রেলওয়ে মহাপরিচালক

কসবার ট্রেন দুর্ঘটনা বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান জানিয়েছেন, তূর্ণা

ভারতে পেঁয়াজের দাম নেই,কৃষকের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

ভারতে পেঁয়াজের দাম নেই,কৃষকের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

ভিডিওতে দেখা যায়, আহমেদনগরের ওই কৃষক কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘আট

জাতীয়

ট্রেন দুর্ঘটনা: মহিমার কেউ নেই, চাচা-ফুফু দাবি করেছেন দু’জন

ট্রেন দুর্ঘটনা: মহিমার কেউ নেই, চাচা-ফুফু দাবি করেছেন দু’জন

জানা গেছে, আড়াই বছর বয়সী ওই শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির সময় কর্তৃপক্ষ তার নাম দিয়েছে মহিমা আক্তার। একটু সুস্থ হওয়ার পর থেকে হাসপাতালের বেডে বসে অবাক-ভয়ার্ত চোখে খুঁজে ফিরছেন স্বজনদের। কিন্তু কে মা কে তার বাবা সে সন্ধান কেউ জানেনা। হাসপাতালের নার্সরাই এখন তার দেখভাল করছেন।

আইন আদালত

এসপি হারুনের দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট

এসপি হারুনের দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট

রিটে এ পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এসপি হারুনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট দায়ের করা হয়।

রাজনীতি

‘নূর হোসেন ইয়াবাখোর’: মায়ের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

‘নূর হোসেন ইয়াবাখোর’: মায়ের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

বিজ্ঞপ্তিতে জাপা মহাসচিব রাঙ্গা বলেন, ‘গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরোয়াভাবে আয়োজিত “গণতন্ত্র দিবস”-এর আলোচনা সভায় আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল এবং বিশেষ করে নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়

ট্রেন দুর্ঘটনা:  ছোট্ট ছোঁয়ামনি মর্গে,বাঁচার আশায় বাবা-মাকে আনা হলো ঢাকায়

ট্রেন দুর্ঘটনা: ছোট্ট ছোঁয়ামনি মর্গে,বাঁচার আশায় বাবা-মাকে আনা হলো ঢাকায়

শিশু ছোঁয়া মনির বাবার নাম সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম। গতকাল সোমবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগে মর্মান্তির ট্রেন দুর্ঘটনায় তারা তিন জনই গুরুতর আহত হন। অনেকের সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছোট্ট ছোঁয়া মনি হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যায়, আর গুরুতর আহত তার বাবা-মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয়

সৌদিতে নারীদের না পাঠাতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

সৌদিতে নারীদের না পাঠাতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

প্রবাসে নির্যাতিত নারীরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে সাহায্য চাইলেও দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোনো সাহায্য করে না জানিয়ে তারা আরও বলেন, ‘বরং যাদের পাঠানো টাকা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করছে তাদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে তারা দ্রুত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ও আর কোনো নারীকে সৌদি আরবে না পাঠানোর দাবি জানান।

বিনোদন

ঢাকা লিট ফেস্টে নাচানাচি; পক্ষে-বিপক্ষে মত

ঢাকা লিট ফেস্টে নাচানাচি; পক্ষে-বিপক্ষে মত

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরে একটি নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে চতুর্দিকে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ‘বন্ধু তুই লোকাল বাস’ গানের সঙ্গে নাচছেন কয়েকজন।