দেশের খাদ্য মজুতের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত ছয় বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সরকারি গুদামে মজুত ২০ লাখ মেট্রিক টনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যেখানে মজুত ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
খাদ্য মজুত নিয়ে গত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- ২০২১ সালে চালের মজুত ছিলো ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৩৯ মেট্রিক টন। এ বছর গমের মজুত ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ছিল ১ হাজার ৩২ মেট্রিক টন৷ এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান ছিল ৭ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন।
২০২২ সালের খাদ্য মজুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে এ বছর চালের মজুত ছিলো ১৫ লাখ ৯ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন। এ বছর গমের মজুত ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৯ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ছিল ২৫ হাজার ১২২ মেট্রিক টন৷ এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান ছিল ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন।
২০২৩ সালের খাদ্য মজুতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- এ বছর চালের মজুত ছিলো ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন। এ বছর গমের মজুত ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৮ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ছিল মাত্র ৮৬৩ মেট্রিক টন৷ এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান ছিল ১৮ লাখ ২ হাজার ৩৮৮ মেট্রিক টন।
২০২৪ সালের খাদ্য মজুতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- এ বছর চালের মজুত ছিলো ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন। এ বছর গমের মজুত ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ছিল মাত্র ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন। এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান ছিল ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন।
২০২৫ সালের খাদ্য মজুতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- এ বছর চালের মজুত ছিলো ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন। এ বছর গমের মজুত ছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ছিল মাত্র ৭ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন৷ এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন।
তবে চলতি অর্থবছরে সেসব পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। এ বছর খাদ্য মজুতের পরিমান বিশ্লেষণে দেখা গেছে- চলতি বছর চালের মজুত রয়েছে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন৷ এ বছর গমের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ৯৭ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন৷ এ বছর সব মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমান রয়েছে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন৷ যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ মজুত।
পরিসংখ্যান বলছে- শুধু গত বছরের চেয়ে এ বছর চালের মজুত বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩১ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন। ধানের মজুত বেড়েছে ৮৯ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার ২ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত বেশি রয়েছে।
খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, সরকার সবসময়ই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্য মজুতের এই রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সাফল্য মূলত কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর খাদ্য নীতি প্রণয়নের ফল। জনগণের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মজুত ও বিতরণের মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কাজ করছি। আশা করি, এই মজুত সাধারণ জনগণকে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল মূল্যবোধে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
পিআর/টিকে