ভুটান নারী লিগে অনেক ম্যাচে ২০-২৫ গোল হয়েছে। এতে বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বেশ তাচ্ছিল্য করতেন। সেই তিনিই এশিয়া কাপের মাত্র মাস দুয়েক আগে ঋতুপর্ণাদের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন লিগে খেলার অনুমোদন দিয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) ফরাশগঞ্জ ২৩-০ গোলে কাচারীপাড়াকে পরাজিত করেছে।
২৩ গোলের ম্যাচে মারামারি ও লাল কার্ডও দেখানো হয়েছে। ঘটনাবহুল ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বাফুফে মিডিয়ায় দিয়েছে রাত পৌনে ১২টায়। রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হয়েছে ১০টার পর। বাফুফে নারী লিগে প্রচারের জন্য মিডিয়াকে অনুরোধ করলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পান না সাংবাদিকরা।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দা করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিক পেয়েছেন তহুরা খাতুনও। জোড়া গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। এক গোল করেছেন মনিকা চাকমা, সামিক্ষা ঘিমিরে, অনামিকা ত্রিপুরা, মানুচিং মারমা, প্রীতি ও তৃষা।
কিক অফের পর ৩৮ সেকেন্ডে প্রথম গোলের দেখা পায় ফরাশগঞ্জ। ২১ মিনিটে ম্যাচে উত্তপ্ততা ছড়ায়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। ঘটনার পর রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে বেশ। কয়েক দফায় ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন মাঠের রেফারিরা। এরপর ফরাশগঞ্জের মনিকা ও কাচারিপাড়ার সামিয়া আক্তার লাল কার্ড দেখেন। ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা।
খেলা পুনরায় শুরুর পর গোল পেতে ফরাশগঞ্জের লাগে মাত্র ১ মিনিট। ৩৭ মিনিটে নেপালের আরেক ডিফেন্ডার সামিক্ষার গোলে লিড ৫-০ করে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ৪২ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চমৎকার গোলে আরও এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। যদিও এই গোলে বেশি অবদান ছিল তহুরার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন এই ফরোয়ার্ড।
গোলকিপার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহারের ব্যাক পাস থেকে দূরের কোনা দিয়ে মাটি কামড়ানো শটে গোল করেন মারিয়া। সেইসঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকও পূরণ করেন তিনি। খানিক পর শামসুন্নাহার সিনিয়রের গতিময় শট ফিরিয়ে দিলে গোলমুখের সামনে আলতো টোকায় জালে বল জড়ান অনামিকা ত্রিপুরা। ৮-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাশগঞ্জ। বিরতির পর আরও ১৫ গোল হয়।
টিজে/টিএ