নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তেমন কিছুই করতে পারল না চেলসি। তাদের হতাশাময় যাত্রায় তখন আরেকটি হারের অধ্যায় যোগ হওয়ার পালা। সেই সময় দৃশ্যপট বদলে দিলেন এন্সো ফের্নান্দেস। তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টার গোলে ম্যানচেস্টার সিটির মুঠো থেকে পয়েন্ট বের করে নিল চেলসি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথমার্ধে টিজানি রেইন্ডার্সের গোলে এগিয়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল সিটি, যা সত্যি হতে দিলেন না ফের্নান্দেস।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট জয়ের পর, নতুন বছরের প্রথম দিন সান্ডারল্যান্ডের মাঠে পয়েন্ট হারিয়েছিল ম্যানচেস্টারের দলটি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবার একইরকম তেতো অভিজ্ঞতা হলো তাদের। ২০ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। তাদের সমান পয়েন্ট অ্যাস্টন ভিলারও।
তাদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। চেলসির পরিস্থিতি ভিন্ন। হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মূল্যবান একটি পয়েন্ট পাওয়ায় দারুণ খুশি দলটি, যদিও তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো নয়। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়শূন্য রইল তারা।
টানা ব্যর্থতার কারণে তিন দিন আগে চেলসির কোচের পদ হারিয়েছেন এন্টসো মারেস্কা। ফলে, প্রধান কোচ ছাড়াই এদিন খেলতে নামে দলটি।সমান ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে চেলসি। তাদের চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেশি নিয়ে চতুর্থ স্থানে লিভারপুল।
ম্যাচের শুরু থেকে বল দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য করে সিটি। ভাগ্য সহায় হলে ৩৯তম মিনিটে গোল পেতে পারতো তারা; কিন্তু আর্লিং হলান্ডের বাঁ পায়ের দারুণ শট দূরের পোস্টে বাধা পায়।
এর তিন মিনিট পরেই অবশ্য ডেডলক ভাঙেন রেইন্ডার্স। হলান্ডের উদ্দেশে বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পেয়ে যান ডাচ মিডফিল্ডার। ঠাণ্ডা মাথায় বল ধরে, ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে জোরাল শটে কাছের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন তিনি।
গত জুনে এসি মিলান থেকে সিটিতে যোগ দেওয়া রেইন্ডার্স প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জালের দেখা পেলেন। চোট কাটিয়ে গত ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে ফেরেন রদ্রি। আর এদিন তিনি নামেন শুরুর একাদশে এবং পুরোটা সময় খেলে মাঝমাঠ সিটির নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
প্রথমার্ধের কোণঠাসা চেলসিকে শেষদিকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে দারুণ পজিশনে বল পান কোল পামার; কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে বিনা বাধায়ও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এর কিছুক্ষণ পর আসে দলটির আনন্দে ভাসার মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ছয় গজ বক্সে প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে বল পেয়ে যান ফের্নান্দেস, তাড়াহুড়ো করে কোনোরকমে শট নেন তিনি, যা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। যদিও জানলুইজি দোন্নারুম্মা হাতে বল রাখতে পারেননি, আবার বল পেয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দলের হার এড়ান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
শেষ বাঁশি বাজতেই চেলসির সমর্থকরা যখন জয় সমতুল্য আনন্দে মাতোয়ারা, তখন অন্যপাশে সিটি শিবিরে ভর করেছে তীব্র হতাশা। ফিল ফোডেন, বের্নার্দো সিলভা, দোন্নারুম্মাদের চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ ছিল স্পষ্ট।
এমআর/টিএ