বোলিং হাতে ব্যথা নিয়ে হাঁটছিলেন মাইকেল নেসার। তার ও নিজের ব্যাট হাতে নিয়ে সঙ্গী ট্রাভিস হেড। ৯১ রানে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছিলেন। একবিংশ শতাব্দিতে অ্যাশেজ সিরিজে ডেভিড ওয়ার্নারের পর দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার হিসেবে পাঁচশ রানের মালিক হয়েছেন তিনি, সিরিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে। সিডনির ব্যাটিং পিচে জো রুটের চমৎকার এক ইনিংসের পর ইংল্যান্ড যে স্বস্তি পেয়েছিল, তা কেড়ে নিয়েছেন হেড।
জেক ওয়েদারাল্ড ও মার্নাস লাবুশেনের উইকেটের বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে ১৬৬ রানে। তার আগে ইংল্যান্ড রুটের দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে ৩৮৪ রানে থামে।
৭২ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনে খেলতে নামেন রুট। যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকে শুরু। লাঞ্চের আগে ১৪৬ বলে ৪১তম টেস্ট শতক হাঁকিয়ে রিকি পন্টিংকে ছোঁন এই ডানহাতি ব্যাটার। হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি ২০৯ বল খেলে। সেঞ্চুরি থেকে ১৬ রান দূরে থাকতে ব্রুক (৮৪) স্কট বোল্যান্ডের শিকার। বেন স্টোকস ১১ বল খেলেও রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন। তিন রানের ব্যবধানে এই জোড়া ধাক্কা ইংল্যান্ড কাটিয়ে ওঠে।
জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকসকে নিয়ে দুটি পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েন রুট। স্মিথ অল্পের জন্য ফিফটি পাননি। ৯৪ রানের জুটিতে ৪৬ রান করেন তিনি। জ্যাকসের সঙ্গে রুটের জুটি ছিল ৫২ রানের।
ইংল্যান্ডের ইনিংস আরও বড় হতে পারতো। কিন্তু ৬১ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় তারা, যার শুরু হয় স্মিথের বিদায়ে। ২৪২ বলে ১৫ চারে ১৬০ রান করেন রুট।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নেসার সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন। দুটি করে পান স্টার্ক ও বোল্যান্ড।
জবাব দিতে নেমে ওয়েদারাল্ড ও হেড শক্ত হাতে ক্রিজে হাল ধরেন। যদিও দুইবার জীবন পেয়ে ওয়েদারাল্ড সিরিজে চতুর্থবার স্টোকসের শিকার হন ২১ রান করে।
৫৭ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর লাবুশেন ও হেড দুজন মিলে একশ ছাড়ান। দিন শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে দুই রানের আক্ষেপে পোড়েন লাবুশেন। ৪৮ রানে স্টোকসের শিকার তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে ১০৫ রানের জুটি। বল হাতে চার উইকেট নেওয়া নেসার নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পরীক্ষায় উতরে গেছেন। চোট পেয়েও ১৫ বলে ১ রানে অপরাজিত তিনি। হেডের ৮৭ বলের ইনিংসে এখন পর্যন্ত ১৫টি চার হয়েছে।
এসকে/টিকে