২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনুরোধ নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার হরভজন সিং। তার মতে, ভারতে খেলতে আসবে কি না সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেরই।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে, যেন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো না রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে হরভজন সিং বলেন, “গত কয়েক দিনে যা যা ঘটেছে, তারপর বাংলাদেশ ভারতে আসতে চায় না। বাংলাদেশে যা হয়েছে, তা ভুল। এখন আইসিসিকেই তাদের অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারত সবাইকে স্বাগত জানায়, কিন্তু তারা এখানে আসতে চায় কি না-সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”
এমন পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিসিসিআইয়ের নির্দেশ। আসন্ন মৌসুমের আগে কলকাতা ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে নেয়। তবে নিলামের কয়েক সপ্তাহ পরই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘কথিত’ সংখ্যালঘু সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেকেআর ও দলটির সহ-মালিক শাহরুখ খানকেও লক্ষ্য করে শুরু হয় সমালোচনা ও চাপ। শেষ পর্যন্ত গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে।
বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কারণে কেকেআরকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। যদিও সেই ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ কী-তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। কেকেআর পরবর্তীতে জানায়, বিসিসিআইয়ের নির্দেশ মানা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়কে মৌসুম শুরুর এত আগে, ফিটনেস বা শৃঙ্খলাজনিত কারণ ছাড়া বাদ দেওয়ার নজির নেই। ফলে বিষয়টি শুধু ক্রিকেটীয় নয়, কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দিনই জরুরি বৈঠকে বসে বিসিবি। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপরই বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করে, ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ না রাখার জন্য। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে এই অনুরোধ জানানো হয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকায় সূচি বদলানো আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধ, ভারতের অবস্থান এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি, সবকিছু মিলিয়ে এখন শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আইসিসিকেই।
এমআই/এসএন