আগের দুই ম্যাচেই খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবারের আরেকটি ম্যাচে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর ফলে টানা হ্যাটট্রিক জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ১৯ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাতেই ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে রংপুর। আর তাতেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
যখন রংপুরের জয় নিয়ে শঙ্কা জাগতে শুরু করেছিল তখনই খুশদিল শাহকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যোগ করেন ৪৭ রান। শেষদিকে খুশদিল শাহ ১২ বলে ২২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হয়ে গেলেও অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। তাকে শেষদিকে দারুণ সঙ্গ দেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো করতে পারেননি রংপুরের ওপেনার লিটন দাস। তিনি মাত্র ১০ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন। এরপর দলটিকে এগিয়ে নেন দুই বিদেশি কাইল মেয়ার্স ও ডেভিড মালান। দুজনে ৬১ রানের জুটি গড়েন। মেয়ার্স ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি করে ২৫ বলে ৫০ রান করে আউট হলেন।
মালান ফিরেছেন ৩০ বলে ৩০ রান করে। তাওহীদ হৃদয় যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনি ১৭ রান করেই আউট হয়ে যান। চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার রনি ও আমের জামাল।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিলেও বড় হয়নি চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই রংপুরকে উইকেট এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের গুড লেংথ ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন নাইম শেখ। ১৫ বলে ১৬ রান করে ফিরেছেন তিনি। দুই দলের প্রথম দেখাতেও নাইমের উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। ব্যাটিংয়ে এসে প্রথম বলেই চার মারেন মাহমুদুল হাসান জয়।
যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার। আকিভ জাভেদকে টানা দুই বলে দুই চার মারার পর আউট হয়েছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। দ্রুতই দুই উইকেট হারানোর পর চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। যদিও চাপ বাড়তে দেননি হাসান নাওয়াজ ও রসিংটন। তাদের দুজনের ব্যাটে একশ ছাড়িয়ে যায় বন্দর নগরীর দলটি। ব্যাট হাতে ছন্দে থাকা রসিংটন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খুশদিলের বলে অন সাইডে ঠেলে দিয়ে ৩৩ বলে করেছেন হাফ সেঞ্চুরি।
চলতি বিপিএলে চার ম্যাচে এটি রসিংটনের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। সবশেষ দুই ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস ও সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ইংলিশ এই ব্যাটার। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পর ফিরতে হয় তাকে। রাকিবুল হাসানের নিচু হওয়া বলে পুল করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন ৪১ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে। একটু পর মুস্তাফিজের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ৪৬ রানে আউট হয়েছেন নাওয়াজ।
ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আসিফ আলী। পেসার আকিফের লেংথ ডেলিভারিতে লং অনের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ২ বলে ১ রান করেছেন পাকিস্তানি ব্যাটার। শেষের দিকে আমেরের ১০ বলে ১৯ ও অধিনায়ক মেহেদীর ৭ বলে ১৩ রানের সুবাদে ১৬৯ রানের পুঁজি পেয়েছে চট্টগ্রাম। রংপুরের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন আকিফ ও মুস্তাফিজ।
এসএস/এসএন