হাঙ্গেরির কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক বেলা তারের মৃত্যুতে স্তব্দ হয়ে গেছে গোটা চলচ্চিত্র অঙ্গন। তাঁর মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের জয়া আহসান বেলা তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জয়া আহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলা তারের ছবি দিয়ে এক আবেগঘন পোস্ট করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বেলা তার চলে গেলেন। কিন্তু তাঁর সিনেমাগুলো আমাদের অনন্ত সঙ্গী হয়ে থাকবে।’
নিস্তব্ধ ফ্রেমের জাদুকর বেলা তারের বিদায়
বেলা তারের দীর্ঘ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার নিয়ে বলেন, ‘তাঁর ছবির ধীর সাদা-কালো ইমেজ আমাদের শূন্যতাকে খুঁজবে, আমাদের অস্তিত্বের চাপ অনুভব করাবে, চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে আমাদেরকে নিজের কাছে ফিরিয়ে দেবে।’
সর্বশেষ তিনি লেখেন, ‘তিনি আমাদের মধ্যেই আছেন।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেলা তার। হাঙ্গেরিয়ান ফিল্ম আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতার পর নিজ বাসায় মারা যান তিনি।
‘তাঁর ছবির ধীর সাদা-কালো ইমেজ আমাদের শূন্যতাকে খুঁজবে, আমাদের অস্তিত্বের চাপ অনুভব করাবে, চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে আমাদেরকে নিজের কাছে ফিরিয়ে দেবে’
বেলা তার ছিলেন ‘স্লো সিনেমা’ ধারার অন্যতম পথিকৃৎ। তার ছবির বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘ একটানা শট, সাদাকালো দৃশ্য, ন্যূনতম সংলাপ আর সময়ের ধীর, প্রায় স্থবির প্রবাহের সংমিশ্রণ।
বিশ্বজুড়ে বেলা তার সবচেয়ে বেশি পরিচিত সাত ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘সাতানতাঙ্গো’ (১৯৯৪) এর জন্য। কমিউনিজম পতনের পর হাঙ্গেরির এক ভেঙে পড়া গ্রামের মানুষের হতাশা ও স্থবির জীবনের গল্প এতে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও এটি তারের সবচেয়ে প্রশংসিত কাজগুলোর একটি হয়ে ওঠে এবং আজ এটি সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
এমকে/এসএন