প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে শেষ হয়েছে শ্বেতা ভট্টাচার্য অভিনীত ধারাবাহিক ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’। সেই সময় থেকেই আপাতত ক্যামেরার সামনে নেই অভিনেত্রী। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এই বিরতিটা বেশ উপভোগ করছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে শ্বেতার সময়টা ঠিক ছুটির মতো কাটছে না।
এর প্রধান কারণ স্বামী রুবেল দাসের ব্যস্ততা। নিজের ধারাবাহিকের টানা শুটিংয়ে এতটাই ডুবে রয়েছেন রুবেল যে, একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কমই পাচ্ছেন এই দম্পতি। ফলে কাজ থেকে বিরতিতে থাকলেও শ্বেতার দিনগুলো কাটছে অনেকটাই একা।
নতুন বছরে আবার অভিনয়ে ফিরবেন কি না, সেই প্রশ্নে শ্বেতা আপাতত কোনও তাড়াহুড়োর পথে হাঁটছেন না। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সময় নিতে চান। শ্বেতার কথায়, তিনি চান দর্শকরা আগে তাঁর শ্যামলী চরিত্রটাকে ভুলুক। সেই জায়গাটা তৈরি হওয়া তাঁর কাছে খুব জরুরি। বেশ কিছু কাজের প্রস্তাব এলেও এখনই নতুন কোনও কাজ শুরু করতে মন চাইছে না বলে জানান তিনি। এই সময়টা নিজেকে দেওয়ার ইচ্ছাই বেশি।
এর পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বও কিছুটা বেড়েছে। সম্প্রতি শ্বেতার মা অসুস্থ ছিলেন। তাই এই সময়টা পরিবারকে দিয়েই কাটাতে চাইছেন অভিনেত্রী। কাজের চেয়ে এখন তাঁর কাছে পরিবার আর সংসারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী উনিশ জানুয়ারি শ্বেতা ও রুবেলের বিয়ের এক বছর পূর্ণ হবে। নতুন সংসারের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছেন শ্বেতা। তবে এক জায়গায় এসে আক্ষেপের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। বিয়ের প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনও হানিমুনে যেতে পারেননি এই দম্পতি। রুবেলের শুটিংয়ের চাপই তার প্রধান কারণ।
শ্বেতা জানান, তিনি এখন ছুটি পেলেও রুবেলের কোনও ছুটি নেই। রুবেল যদি সময় পেতেন, তাহলে হয়তো কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করা যেত। মাঝেমধ্যে রবিবারে ছুটি মিললেও শুটিংয়ের চাপে সেটুকুও প্রায় থাকছে না। ফলে মনখারাপটা থেকেই যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে ধারাবাহিকে ফেরার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেননি শ্বেতা ভট্টাচার্য। কিছুদিন মন দিয়ে সংসার আর পরিবার নিয়েই থাকতে চান তিনি। নিজের মতো করে সময় নিয়ে, সঠিক মুহূর্ত এলেই আবার ফিরবেন পর্দায়, এমনটাই ইঙ্গিত অভিনেত্রীর কথায়।
আইকে/টিএ