সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতিসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি বহু আগে থেকেই বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একজন ভক্ত। সাংবাদিক জীবনের শুরুর দিকেই তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। আসিফ নজরুল লেখেন, ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে ধানমন্ডিতে বিএনপির কার্যালয়ে তিনি খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেন। সে সময় দলটির সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান পটল এবং মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার।
পোস্টে তিনি সাক্ষাৎকারের বিষয়টি উল্লেখ করে লেখেন, লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে একটি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নেতা আপত্তি জানান। তবে খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ করে হাসিমুখে সেই প্রশ্নের জবাব দেন। পরে তিনি আরও কয়েকবার খালেদা জিয়ার একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পান বলে জানান আসিফ নজরুল।
দেশে ফিরে পিএইচডি শেষ করার পর তিনি কলাম লেখা ও টকশোতে অংশ নেওয়া শুরু করেন উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা লেখেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলেও তিনি দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে সেসব মোকাবিলা করেছেন। এই সময়েই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও গভীর হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা থেকে তিনি বিরত থাকেননি। তার ভাষায়, সে সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া খুব কম নেতাকেই তিনি খোলাখুলিভাবে খালেদা জিয়ার পক্ষে কথা বলতে দেখেছেন।
পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিনে তিনি তার পরিবার–পরিজনের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া এবং জাতীয় পতাকায় মোড়ানো নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনাকে তিনি নিজের জীবনের একটি বড় সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, দেশের জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখতে খালেদা জিয়াকে আজীবন ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সেই পতাকা তার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার অংশীদার হতে পারাকে তিনি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বলে উল্লেখ করেন।
আইকে/টিএ