আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদ।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় কল্যাণপুর যুব সংঘের আয়োজনে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় হারুনুর রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আর ভোট করছে না, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতীক থাকবে না। এখন তারা কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। তারা জামায়াতে ইসলামিকে দেবে নাকি বিএনপিকে দেবে, সেটাও তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন যদি কেউ হারুন এমপিকে ভোট দিতে চায় আর জামায়াতের লোকেরা বলে, এই লোক আওয়ামী লীগ করে, একে ধরেন এ রকম দু-একটি ঘটনাও ঘটেছে। তাই আমি খুব তীব্রভাবে বলেছি, যাদের (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, মামলা নেই, এমন কোনো মানুষকে যেন হয়রানি করা না হয়। যদি হয়রানি করা হয়, তাহলে আমি জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করব। এটা আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এই শহরে কিংবা এই দেশে আওয়ামী লীগের লোকজন বসবাস করছে। সবাই কি অপরাধ করেছে? আওয়ামী লীগের সময় আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম, তবুও আমাদের নামে মামলা হয়েছে। তাই এখন যারা নিরপরাধ, কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যদি মিথ্যা মামলায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি সব প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসব।আমার শক্তি হবে জনগণ। এখানে কোনো অন্যায় চলবে না, চাঁদাবাজি চলবে না। পরিষ্কার কথা, নিরাপদ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। সুতরাং এখানে আমি বিএনপি করি বলে জমি দখল করব, হারুন এমপির কাছের লোক বলে যা ইচ্ছা তাই করব এটা হবে না। তাতে যদি আমার লোকেরা আমাকে ভোট না দেয়, না দিক। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। থানায় কিংবা ভূমি অফিসে ঘুষ দিতে হবে এই দৃশ্য আর দেখতে চাই না। এ জন্য যারা যুবক আছো, তোমাদের সমর্থন চাই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল ইসলাম সুলতান, জেলা তাঁতি দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী এবং সাবেক কাউন্সিলর ইফতেখার আহমেদ রঞ্জুসহ প্রমুখ।
এমআর/টিএ