আমরা ‘না’ ভোট দেব দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে: জি এম কাদের

জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির অবস্থান থাকবে বলে জানিয়ে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, ‘আমরা ‘‘না’’ ভোট দেব। দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে জনগণকে ‘‘না’’ ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। সরকারের এমন উদ্যোগ সংবিধানবিরুদ্ধ, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৯৬টিতে দলের প্রার্থী রয়েছে।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার হলে দেশ অচল হয়ে পড়বে বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি সংবিধান নিয়ে অনেক দিন কাজ করেছি। অনেক বড় বড় সেমিনারে কাজ করেছি। স্বৈরাচার রোধের নামে উনারা যে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আপনি স্বৈরাচার বন্ধ করবেন, কিন্তু সেটা বন্ধ করতে গিয়ে দেশ চালাবেন কীভাবে? দেশ চালানোর ব্যক্তিক্ষমতা দিতে হবে, ক্ষমতা না দিলে কোনো দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।’

গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এ সংবিধান সংশোধনী বেআইনি, অবাস্তব। এটা বাস্তবায়ন হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। কোনো রকমের স্থিতিশীলতা থাকবে না, একটি সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে পড়ে যাবে। আইন বাস্তবায়ন করা যাবে না।’ সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের পক্ষে নয় বলে দাবি করেন জি এম কাদের।

অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সরকার উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, সংস্কার প্রশ্নে গণভোট সাংবিধানিক বিধান নয়। শুধু নির্বাচিত সংসদ সাংবিধানিক বিষয় পরিবর্তন করতে পারে। গণভোট কখন হবে, কীভাবে হবে, সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে। যদিও বিদ্যমান সংবিধানে গণভোট করার সুযোগ নেই।

মামলা নিয়ে হুজ্জতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, মামলার নামে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। মামলার নামে জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

দলীয় নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে দাবি করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কর্মী-সমর্থকদের বলা হচ্ছে, জাতীয় পার্টির হয়ে কাজ করতে আসলেই মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হবে।’

জাপা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা মাঠ ছেড়ে দেব না। উনারা চাচ্ছেন আমাদের গর্তে ঢুকিয়ে দিয়ে খালাস করে দেবেন। কিন্তু আমরা জনগণের ভয়েস হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।’

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে উল্লেখ করে গত সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ভোটে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। মব দিয়ে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। আটক করে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা শুনতে পাচ্ছি, জেল থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীর মৃতদেহ বের হয়ে আসছে। আমরা তাদের তালিকা চাই।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, কিন্তু এ সরকারের নিয়োগকর্তা হিসেবে যারা আছে, তারা দেশে নাৎসিজম কায়েম করার চেষ্টা করছে। তারা প্রথমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করেছে, এখন আমাদের ওপর আঘাত করছে। এরপরে যাঁরা মনে করছেন ভালো আছেন, আরামে আছেন, তাঁদেরও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।’

নিজেকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি দাবি করে একটি বড় দলকে সতর্ক করে দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘ফ্যাসিজমের জায়গায় যে নাৎসিজম চালু হচ্ছে, তাদের কবলে আপনারাও ধ্বংস হয়ে যাবেন। একতাবদ্ধ না হলে আপনারাও ধ্বংস হয়ে যাবেন। এখনই সাবধান হোন। হিটলারকে ঠেকাতে হবে। নাৎসিজমকে দলবদ্ধভাবে ঠেকাতে হবে।’
বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা জাপা করেছিল উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে একটা আওয়ামিতন্ত্র কায়েম করেছিল, বৈষম্যকে লাগামহীন করেছিল, দেশে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিল; এগুলো বলে আমরা দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগকে ছোট করার চেষ্টা করেছিলাম। যার জন্য জনগণ একত্র হয়ে এই আন্দোলনের (জুলাই গণ-অভ্যুত্থান) মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।’ একতরফা নির্বাচন দেশের সব রাজনৈতিক দলই করেছিল বলে দাবি করেন জি এম কাদের।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থনে ২৬টি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিল আওয়ামী লীগ। সেখানে মাত্র ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল জাপা। ফলে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন জি এম কাদের।

এবি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ডিভোর্সের গুঞ্জনে বিস্ফোরক জবাব নেহার Jan 21, 2026
img
চলে গেলেন বিখ্যাত অভিনেতা ব্রুস লিউং Jan 21, 2026
img
নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমটের কাছে ধরাশায়ী ম্যানচেস্টার সিটি Jan 21, 2026
img
কর্মী-সমর্থকদের অভ্যর্থনায় অঝোরে কাঁদলেন রুমিন ফারহানা Jan 21, 2026
img
আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, চঞ্চলের উদ্দেশ্যে পরী Jan 21, 2026
img
রুমিন ফারহানাকে আরেকটি শোকজ Jan 21, 2026
img
দেশ ছেড়ে দুবাই গিয়ে কোন পেশা বেছে নিয়েছেন রিমি সেন? Jan 21, 2026
img
সিলেটে লাল-সবুজের বাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান Jan 21, 2026
img
যুবলীগ ও খেলাফত আন্দোলনের ১১ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান Jan 21, 2026
img
৩০ আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত Jan 21, 2026
img
গণভোটের প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই: শারমীন এস মুরশিদ Jan 21, 2026
img
গ্রেপ্তার অক্ষয় কুমারের গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িত চালক Jan 21, 2026
img
যশোরের ৬টি আসনে ৩ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার Jan 21, 2026
img
আইনি জটিলতায় শহীদের ‘ও রোমিও’ Jan 21, 2026
img
নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার Jan 21, 2026
img
ময়মনসিংহে ভোটের লড়াইয়ে ৬৭ প্রার্থী, বিএনপির বিদ্রোহী ৮, জামায়াতের ১ Jan 21, 2026
img
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সরকারি সফরে আফগান উপমন্ত্রী Jan 21, 2026
img

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আজ প্রতীক বরাদ্দ, কাল থেকে প্রচারণা Jan 21, 2026
img
মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল Jan 21, 2026
img
আ. লীগ আমলের মতো এবার দিনের ভোট রাতে হবে না: মুশফিকুর রহমান Jan 21, 2026