নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেছেন, ‘ওরা দুর্বল বলেই ভয় দেখাচ্ছে, মামলা করছে। কিন্তু আমি ভয় পাই না। জনগণের শক্তিই আমার একমাত্র ভরসা।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর শহরের ইকু হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় সিদ্দিকুল আলম তার নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সৈয়দপুরের ক্যাম্পবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১০টি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
যোগাযোগ ও নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে জাপা প্রার্থী জানান, ‘এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত ও আধুনিক করা হবে। পাশাপাশি সৈয়দপুরকে সিটি করপোরেশন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি দাবি করেন, সৈয়দপুর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদানকারী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। কৃষি ও খাদ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে সিদ্দিকুল আলম বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কৃষিজমি রক্ষা, চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক স্থাপন এবং খাতামধুপুর হয়ে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘কিশোরগঞ্জের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ ও সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পাশাপাশি একটি রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো সংসদ সদস্য যদি পাঁচ বছর সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তার এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা থাকার কথা নয়।’
মতবিনিময় সভার শেষাংশে আবেগঘন কণ্ঠে সিদ্দিকুল আলম বলেন, ‘আমি এমন কাজ করে যেতে চাই, যাতে মৃত্যুর পরও মানুষ আমাকে মনে করে দোয়া করে। এই লক্ষ্যেই জনগণের কাছে এসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/টিএ