নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকার। একসময় রুপালি পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও এখন তার পরিচয় দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর স্ত্রী হিসেবে। অভিনয় থেকে সরে গেলেও ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং তারকাখ্যাত স্বামীর সুবাদে তিনি আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
মডেলিংয়ের মাধ্যমে গ্ল্যামার জগতে প্রবেশ করেছিলেন নম্রতা। ১৯৯৩ সালে মিস ইন্ডিয়া হন। ১৯৯৮ সালে সালমান খানের বিপরীতে ‘জাব প্যায়ার কিসিসে হোতা হ্যায়' ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নম্রতা। ‘মেরে দো আনমোল রতন’, ‘হিরো হিন্দুস্থানি’, ‘বাস্তব,’ ‘পুকার’, ‘অস্তিত্ব’,‘কাচ্চে ধাগে’র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবি উপহার দেন তিনি।
এরপর তিনি দক্ষিণী চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘হেরা ফেরি’, ‘দিল বিল পেয়ার বেয়ার’, ‘এলওসি: কার্গিল’। এছাড়াও তিনি ইংরেজি ছবি ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ এ অভিনয় করেন। শেষবার তাকে ২০২২ সালের তেলুগু ছবি ‘মেজর’ এ দেখা যায়।
২০০৫ সালে দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন নম্রতা। তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বরাবরই অনুরাগীদের অনুপ্রেরণা দেয়। বিনোদন দুনিয়ায় তারা ‘পাওয়ার কাপল’ নামে পরিচিত।
সালমান খানের বিপরীতে ‘জাব প্যায়ার কিসিসে হোতা হ্যায়' ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নম্রতা
বর্তমানে মহেশবাবু ব্যস্ত রয়েছেন এস এস রাজামৌলি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বারাণসী’ নিয়ে। জানা গেছে, এই ছবির জন্য টানা তিন বছর ধরে প্রতি বছর ৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তিনি যা তাকে দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর নম্রতা পুরোপুরি মন দেন ব্যবসায়। বহুতল নির্মাণ, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নম্রতা ও মহেশবাবু দুজনই সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
২০০৫ সালে দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন নম্রতা।
অভিনয় থেকে উপার্জিত অর্থ এবং ব্যবসার লাভ মিলিয়ে নম্রতা শিরোদকারের একার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, মহেশবাবুর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই তারকা দম্পতির সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
অভিনয় ছেড়েও ব্যবসা ও পারিবারিক ভারসাম্য সবকিছু মিলিয়ে নম্রতা শিরোদকার সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
এসএন