দুই দশকের দাম্পত্যের ইতি টানার সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা স্পষ্ট করে জানালেন সীমা সাজদেহ। সোহেল খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও এবার নিজের অনুভূতি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। সম্পর্ক ভাঙার নেপথ্যে যে শুধুই দূরত্ব নয়, বরং বাস্তব উপলব্ধি কাজ করেছে, তাও অকপটে স্বীকার করেছেন সীমা।
অল্প বয়সেই সোহেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সীমার। তখন তাঁর বয়স মাত্র বাইশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের জীবনদর্শন, চিন্তাভাবনা ও চাওয়াপাওয়ার মধ্যে ফারাক ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। সীমার কথায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পারেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নয়, বন্ধু হিসেবেই তাঁদের সম্পর্ক বেশি মানানসই। প্রতিদিনের ঝগড়া আর অশান্তির পরিবেশে সন্তানদের বড় করে তোলার বদলে আলাদা হয়ে যাওয়াকেই তাঁরা শ্রেয় মনে করেছিলেন।
সীমা জানিয়েছেন, এই বিচ্ছেদ একতরফা সিদ্ধান্ত ছিল না। দু’জনের সম্মতিতেই দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানা হয়। তবু সম্পর্কের বাঁধন পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। সন্তানদের বাবা হিসেবে সোহেলের জায়গা তাঁর জীবনে অটুট রয়েছে। এখনও তাঁরা এক পরিবার বলেই নিজেদের মনে করেন বলে জানিয়েছেন সীমা।
বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। অবসাদে ভুগেছেন, সন্তানদের মানসিক অবস্থার কথাও ভেবেছেন বারবার। তাই তড়িঘড়ি নয়, দীর্ঘ সময় ধরে ভেবে সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষা করেছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে সন্তানদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এর মধ্যেই জীবনের পুরনো অধ্যায় থেকে ফিরে এসেছে আর এক সম্পর্ক। ছোটবেলার প্রেমিক বিক্রম আহুজার সঙ্গে এখন ঘনিষ্ঠ সীমা। শোনা যায়, একসময় বিক্রমের সঙ্গেই তাঁর বাগ্দান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় সোহেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি। অতীতের ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে এখন আবার কাছাকাছি এসেছেন দু’জনে।
বিচ্ছেদের পর একা জীবন সামলানো সহজ ছিল না। নানা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সীমাকে। তবে ধীরে ধীরে নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। সীমার কথায়, প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে শক্ত করেছেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর নতুন পথচলা।
পিআর/টিকে