বাংলা রকের দুই শক্ত স্তম্ভকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয় ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ‘ক্যাকটাস’ আর ‘ফসিল্স’ এই দুই ব্যান্ডের নাম উচ্চারিত হলেই অনুরাগীদের মধ্যে আবেগ, উত্তেজনা আর তুলনার ঢেউ উঠত। তবে সেই অধ্যায়ের দিকে আর ফিরে তাকাতে চান না সিধু। রূপম ইসলামের জন্মদিনে নিজের অনুভূতি উজাড় করে দিয়ে তিনি জানালেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।
সিধুর কথায়, এক সময়ে সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ঠিক যেমন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল দলের মধ্যে লড়াই থাকে, তেমনই ছিল দুই ব্যান্ডের মধ্যে চাপা টানাপড়েন। কিন্তু সেই সময় অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন তিনি। আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী সিধু মনে করেন, ক্ষমা না করলে বৃহত্তর আনন্দে পৌঁছনো যায় না। তাই কিছু তিক্ত স্মৃতি ইচ্ছে করেই ভুলে গিয়েছেন, আর রূপমের জন্মদিনের মতো শুভ দিনে সেসব টেনে আনতেও চান না।
তবে এই প্রতিযোগিতার এক ইতিবাচক দিকও দেখেন তিনি। সীমিত পরিসরের বাজারে যেমন দুই শক্তির লড়াই চলে, তেমনই এক সময় বাংলা রক জগতে ‘ক্যাকটাস’ ও ‘ফসিল্স’ কার্যত একই মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিল। সেই সময় অন্য কারও জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। সিধুর মতে, প্রকৃত রেষারেষি ছিল না শিল্পীদের মধ্যে, বরং তার বহু গুণ বেশি ছিল অনুরাগীদের মধ্যে। শিল্পীরা মুখোমুখি হলে কথা হয়েছে স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গিতেই।
একই উৎসবের মঞ্চে কাছাকাছি সময়ে দুই ব্যান্ডের অনুষ্ঠান হওয়ার উদাহরণ টেনে সিধু বোঝান, আজও দর্শক দুই পক্ষকেই সমানভাবে গ্রহণ করে। কে কাকে বেছে নেবে, সেটা সম্পূর্ণভাবে শ্রোতাদের সিদ্ধান্ত। তরুণ অনুরাগীদের আবেগ প্রবল বলেই অনেক সময় সেই আবেগ থেকেই বিতর্ক জন্ম নেয়। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখতে তাঁর খারাপ লাগে না বলেই মন্তব্য সিধুর।
একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। দু’জনের গানের প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সময় প্রস্তুতির মাত্রা যে কতটা উচ্চতায় থাকে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন সিধু। ‘ফসিল্স’-এর সঙ্গে কাজ মানেই নিজের দিক থেকেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি এই উপলব্ধি থেকেই কাজ করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কও বদলেছে। এক সময় ব্যাকস্টেজে দূরত্ব থাকলেও, গত এক দশকে আর কোনও সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন সিধু।
রূপমের কাজের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে সিধু বলেন, বাংলা রককে যে উন্মাদনা, শক্তি আর আবেগের জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন রূপম ও তাঁর ব্যান্ড, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাকে ছুঁয়ে গেছে। যেমন ‘এই একলা ঘর আমার দেশ’ কিংবা ‘সেই যে হলুদ পাখি’ এই গানগুলো মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এভাবেই গান ব্যান্ডকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
সবশেষে রূপমের জন্মদিনে সিধু ও ‘ক্যাকটাস’-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে শুভেচ্ছা। প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প পেছনে ফেলে, আজ সেখানে রয়েছে সম্মান, স্মৃতি আর সংগীতের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা।
পিআর/টিকে