টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব ক্রিকেট। বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া এবং পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট-সব মিলিয়ে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি ঘিরে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। এই সংকটের মূলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দায়ী মনে করছেন আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি-উল-হাসান বার্নি।
বিশ্ব ক্রিকেটে চলমান অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর শুরুটা হয় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর হঠাৎই তাঁকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে পাকিস্তান সরকার জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারত ম্যাচে নামবে না পাকিস্তান।
বার্নির মতে, বিসিসিআই সামান্য সতর্ক হলেই এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। আইসিসিতে মেয়াদ শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করা বার্নি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘খেলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি আরও একটু বিচক্ষণ হতেন এবং বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’
৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে ২০২৬ মৌসুমের জন্য মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। তবে রাজনৈতিক দলের নেতা ও কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয় সাবেক আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের দাবিতে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দেয় বিসিবি। দুই পক্ষের একাধিক আলোচনার পরও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
বার্নির অভিযোগ, বিসিসিআইয়ের প্রকাশ্য অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই চাইলে বিষয়টি গোপনে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মিটিয়ে নিতে পারত। প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কখনো কখনো ভুল সিদ্ধান্তের একটি বক্তব্য দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। ৩ জানুয়ারির ঘোষণাটিই এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।’
এমআই/টিএ