বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
এরমধ্যে ব্যান্ড সংগীতে প্রথমবার ঘোষিত হলো একুশে পদক। আর প্রথমবারই এই পুরস্কার পাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’। বাংলাদেশে প্রথম বাংলা ব্যান্ডের একুশে পদকপ্রাপ্তির খবরে যোগাযোগ হয় ব্যান্ডটির দলনেতা ও ড্রামার শেখ মনিরুল আলম টিপুর সাথে।
মিরপুর স্টেডিয়ামে পারফর্ম করতে মঞ্চে উঠার আগে পান এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবর। প্রথম বাংলা ব্যান্ড হিসেবে একুশে পদক পাওয়ার খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশের এক গণমাধ্যমকে টিপু বলেন,“এরকম একটা খবরের জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিলো। বাংলাদেশে বাংলা ব্যান্ড হিসেবে প্রথমবার আমরা একুশে পদক পেলাম, এটা অন্যরকম একটা অনুভূতি। এটা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”
এসময় ব্যান্ড সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টিপু বলেন,“ওয়ারফেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা আমরা কাজ করেছি, এখনো করছি- ব্যান্ডের সাবেক সদস্য থেকে বর্তমান ব্যান্ড সদস্য এবং তাদের পরিবারসহ আমাদের শ্রোতা দর্শক থেকে শুরু করে যারা আমাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আছেন- প্রত্যেকের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আসলে সবার ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থনের কারণেই আজকের এই একুশে পদক আমরা অর্জন করতে পেরেছি।”
একুশে পদকপ্রাপ্তির কিছুটা আভাস আগে থেকে পেলেও এই খবরকে খুব একটা পাত্তা দেননি ওয়ারফেজ সদস্যরা। টিপু বলেন, “কিছুটা হিন্টস আগে থেকে পাচ্ছিলাম, কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করিনি।”
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের খবরটি যখন পেলেন ‘ওয়ারফেজ’ সদস্যরা, তখন তারা ছিলেন মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। একটি শোয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জানিয়ে টিপু জানান, আমাদের আজ শো ছিলো মিরপুর স্টেডিয়ামে। মঞ্চে উঠার ঠিক মিনিট চারেক আগে খবরটি পাই। খবরটি শোনার পর ব্যান্ড মেম্বাররা সবাই উল্লাস করলাম। একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম, সত্যি কথা চোখে পানি রাখতে পারছিলাম না! এ অবস্থায় স্টেজে উঠলাম এবং পারফর্ম করলাম!
এটা সবার জন্য একটা উৎসাহজনক একটা সিদ্ধান্ত মন্তব্য করেন ‘ওয়ারফেজ’ এর দলনেতা। তিনি বলেন,“বাংলাদেশে অনেক স্বনামধন্য ব্যান্ড আছে, আমি মনে করি প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়ার যোগ্য। আমাদের সিনিয়র অনেক ব্যান্ড আছে। কিন্তু আমরা পেলাম, তাও প্রথমবার- এটা সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। এটা অবশ্যই নতুন প্রজন্মকে এবং ব্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তথা গোটা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে আরো গতিশীল করবে এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”
তরুণ প্রজন্মকে ব্যান্ডের প্রতি আরো আকৃষ্ট করবে এই রাষ্ট্রীয় পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত, এমনটাই মনে করেন টিপু। বলেন, তরুণ প্রজন্ম আরো ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে উদ্ধুদ্ধ হবে, এটা আমার বিশ্বাস। কারণ সরকারি স্বীকৃতি একটা বড় মর্যাদার বিষয়। আর সেটা যখন একটা ব্যান্ড অর্জন করে, তখন তরুণরাও স্বপ্ন বুঁনতে পারে ভাবতে পারে যে ‘আমরা পারবো না কেন, আমরা আরো ভালো কিছু করতে পারবো’! আমার মনে হয়, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এই পদক আরো গতি সঞ্চার করবে।
ব্যান্ড মিউজিকে ‘ওয়ারফেজ’কে ছাড়াও এবছর চলচ্চিত্রে ববিতা, চারুকলায় ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু, নাট্যকলায় পালাকার ইসলাম উদ্দিন, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার ও নৃত্যকলায় অথৈ আহমেদকে একুশে পদক দিয়েছে সরকার।
এবি/টিকে