দক্ষিণী চলচ্চিত্রে নিঃশব্দে কিন্তু স্পষ্ট এক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বড় বাজেটের ছবিগুলোর দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে তিন ঘণ্টার ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, আর সেটাই যেন নতুন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে উঠছে। দর্শকের ধৈর্য নিয়ে আগের মতো শঙ্কা নেই, বরং বিশাল ক্যানভাসে গল্প বলার আকাঙ্ক্ষাই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে নির্মাতাদের মনে।
এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন মহেশ বাবু ও এস এস রাজামৌলির বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বারাণসী’। ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে, ছবিটির দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টা। অর্থাৎ শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে দীর্ঘ কিন্তু বিস্তৃত এক চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা, যেখানে গল্প, দৃশ্য ও আবেগের বিস্তারকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের খাঁচায় আটকে রাখা হচ্ছে না।
একই পথে হাঁটছে প্রভাসের আরও দুটি কাজও। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার পরিচালনায় ‘স্পিরিট’ এবং প্রভাস অভিনীত ‘ফৌজি’ দুটি ছবিই প্রায় তিন ঘণ্টার কাছাকাছি দৈর্ঘ্য ছুঁতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি নতুন নয়, সাম্প্রতিক সময়েই মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক দক্ষিণী ছবিতে এই দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। বিশাল সেট, অ্যাকশন, আবেগঘন দৃশ্য আর চরিত্রের গভীরতায় নির্মাতারা যেন সময়কে আর সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছেন না।
এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দর্শকের রুচিরও এক বড় রূপান্তর। তারকানির্ভর ছবিতে এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং পরিপূর্ণ এক ভিজ্যুয়াল যাত্রা চান দর্শক। ফলে গল্প বলার গভীরতা, চরিত্র নির্মাণ এবং দৃশ্যগত বৈভব সবকিছুর জন্যই নির্মাতারা বেছে নিচ্ছেন দীর্ঘ সময়। দক্ষিণী চলচ্চিত্রে তিন ঘণ্টার এই নতুন ধারা তাই কেবল দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন নয়, বরং চলচ্চিত্র ভাবনারই এক বিস্তৃত রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পিআর/টিকে