ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ায় তার গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, পরীমনি তার এক বছরের দত্তক কন্যাকে খাওয়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী পিংকি আক্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় পিংকি আক্তার ভাটারা থানায় বৃহস্পতিবার একটি জিডি করেন, যা নিশ্চিত করেছে থানার পুলিশ।
ভাটারা থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসার গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই পরীমনির গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
আবদুর রহমান ভুট্টো নামের একজন মন্তব্য করেছেন, "পরীমনিকে এখনো কেন গ্রেফতার করা হয়নি?"
নিজাম নামের একজন লিখেছেন, "যারা গৃহকর্মী নির্যাতন করে, তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।"
মানিক খান লিখেছেন, "তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।"
শরীফুল ইসলাম বলেছেন, "পরীমনিকে আইনের আওতায় আনা দরকার।"
আশরাফুল ইসলাম নামের একজন দাবি করেছেন, "তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।"
উল্লেখ্য, পরীমনি এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
২০২১ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করেন, ক্লাবগুলোতে গিয়ে বিল না দিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। এছাড়া তারা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকিও দিয়েছেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
পরে পরীমনি সাভার থানায় পাল্টা মামলা করেন, যেখানে তিনি নাসির উদ্দিন ও আরও একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
এছাড়াও, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট র্যাব বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়—প্রথমে ৫ আগস্ট চারদিন ও পরে ১০ আগস্ট দুইদিনের জন্য।
এসএস