© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খুলনায় অনশনে ৪০ পাটকল শ্রমিক অসুস্থ

শেয়ার করুন:
খুলনায় অনশনে ৪০ পাটকল শ্রমিক অসুস্থ
own-reporter-khulna
০২:৪৯ পিএম | ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে নিজ নিজ মিল গেটে শ্রমিকরা অনশন শুরু করেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন অব্যাহত রয়েছে।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে নিজ নিজ মিল গেটে শ্রমিকরা অনশন শুরু করেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত অনশনে থাকা অবস্থায় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে ১৫ জনকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের অনশনস্থলে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ১৫ জনকে ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে ঢাকায় মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এ জন্য শ্রমিকেরা অনশন অব্যাহত রেখেছেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনশন কর্মসূচিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে ৮টি অংশ নিচ্ছে। শুধু যশোরের জেজেআই আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। শ্রমিকরা নিজ নিজ পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রেখে মিলের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করছেন।

খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দুটি জুট মিল হলো কার্পেটিং ও জেজেআই।

শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে আছে- বকেয়া মজুরি পরিশোধ, পিচ রেটে (ঘণ্টা অনুযায়ী মজুরি) শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া, বকেয়া থাকা অবসর ও মৃত্যু বিমার টাকা পরিশোধ করা, নিজ নিজ মিলের পিএফ ফান্ডের টাকা আবার ওই ফান্ডে ফেরত দেওয়া, মৃত্যুজনিত শ্রমিকদের বিমা দাবি ৩৬ মাস হিসেবে পরিশোধ করা, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত সব শ্রমিক -কর্মচারীদের পুনর্বহাল করা, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের যে কোনো রায় পুনর্বহাল রাখা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজ বণ্টন করা, মিলের কর্মচারীদের নিয়োগ আবার মিলের কাছে হস্তান্তর করা, চাহিদা অনুযায়ী পাটের মৌসুমে পাট কেনার জন্য মিলগুলোকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া, পাট শিল্পকে কৃষি শিল্পে রূপান্তর করে ওই শিল্পের সব ধরনের সুযোগ দেওয়া, পাটের বাধ্যতামূলক মোড়কজাত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, বিদেশে পাটপণ্য বিক্রির জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া, মিলগুলোর আধুনিকায়ন করা এবং আলিম জুট মিলের শ্রমিকদের ৪০ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা।

 

টাইমস/এইচইউ

মন্তব্য করুন