ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ধমকি দেয়া বন্ধ করতে বললেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

একদিকে রাতে আঁধারে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে আটক, অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' বলে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে, ট্রাম্পের এমন হুমকিরর পর মুখ খুললেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে 'হুমকি বন্ধ করতে' বলেছেন তিনি।

মেটে ফ্রেডারিকসেন বলেন, 'আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধিকার নেই ডেনিশ রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা।'

তার মন্তব্য এসেছে ট্রাম্পের এক সহকারীর স্ত্রী কেটি মিলারের এক্সে পোস্টের পর, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্রে আমেরিকার পতাকার রঙ ব্যবহার করে 'সুন' বা 'শীঘ্রই' লিখেছেন।

ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অধিগ্রহণের সম্ভাবনার কথা মিডিয়ার সামনে উত্থাপন করেছেন। মূলত, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কারণে ট্রাম্প বারবার অঞ্চলটি নেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের লাগবেই বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লক্ষ্য পূরণে ডেনমার্কের মালিকানাধীন আর্কটিক দ্বীপটিতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, চীন ও রাশিয়ার জাহাজ হুমকি তৈরি করছে অঞ্চলটিতে। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়া 'খুবই' প্রয়োজন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, কূটনৈতিক পথেই সমঝোতার চেষ্টা করছেন তিনি। আর সেজন্য গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই দায়িত্ব পাচ্ছেন লুইজিয়ানার গভর্নর লন্ড্রি।

কিন্তু গতকাল মাদুরোকে কূটনৈতিক পথে সমঝোতার চেষ্টা না করে আটক করার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বনেতারা। একজন প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে কাপুরুষের মতো আটক করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধানরা।

ট্রাম্পের এমন আচরণ যে শান্তি কিংবা সমঝোতা নয়, সেটি খুব ভালভাবেই অনুধাবন করেছে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তাইতো, মাদুরোকে আটকের একদিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি-ধমকি বন্ধ করতে বলেছেন তিনি।

গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জানিনা কেন এটা ডেনমার্কের অংশ বলা হয়। ডেনমার্ক সেখানে কোনো ব্যয়ই করেনা। সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। খনিজ সম্পদ নয়, আমাদের জাতীয় সুরক্ষার জন্যই গ্রিনল্যান্ড দরকার। সেদিকে তাকালে দেখবেন, রাশিয়া আর চীনের জাহাজ চারপাশে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি দরকার। আর তা পেতেই হবে।

ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ নতুন করে উস্কে দিয়েছে উত্তেজনা। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্বায়ত্ত্বশাসিত গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসন। নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও নেই বলে জানিয়েছে তারা। ক্ষোভ জানিয়ে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানালে তা মেনে নেয়া হবে না। কোপেনহেগেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা আমাদের ওপর নির্ভর করছে। কেউ আমাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করলে তা মেনে নেবো না। সীমা অতিক্রম করছে তারা। ডেনমার্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। এমন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনৌয়ার এল আনৌনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা। তবে ডেনমার্ক ইস্যুতে ইইউ'র অবস্থান স্পষ্ট করতে চাই। যা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের নীতি। ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের সুরক্ষা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

উল্লেখ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের। ১৯৭৯ সাল থেকেই পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসিত আর্কটিক দ্বীপটি। ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডের আছে বিপুল খনিজের ভাণ্ডার। যা ব্যবহার করতে পারলে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে দ্বীপটি।

এসকে/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
গোপালগঞ্জে শতাধিক আ.লীগ কর্মী যোগ দিলেন বিএনপিতে Jan 08, 2026
img
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে এবার সহযোগিতা চাইলেন আমজনতার তারেক Jan 08, 2026
img
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে মিলল নতুন তথ্য Jan 08, 2026
img

জকসু নির্বাচন

হাদি-বিশ্বজিত-খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের বিজয় উৎসর্গ করলেন ভিপি রিয়াজ Jan 08, 2026
img
মানিকগঞ্জে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Jan 08, 2026
img
খালেদা জিয়া ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের জনপ্রিয় নেত্রী: আনিসুল হক Jan 08, 2026
img
ফতুল্লায় এক কোটি ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়িসহ আটক ১ Jan 08, 2026
img
সিরাজগঞ্জে ৬ ইটভাটাকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা Jan 08, 2026
img
দেশপ্রেমের কারণে খালেদা জিয়াকে হাজার বছর মনে রাখবে মানুষ: নুরুজ্জামান লিটন Jan 08, 2026
img
খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে: প্রিন্স Jan 08, 2026
img
আজ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা Jan 08, 2026
img
জকসুতে শীর্ষ ৩ পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয় Jan 08, 2026
img

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসিকতা

সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশ টাইমসের দুই সাংবাদিক Jan 08, 2026
img
ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশিরা Jan 08, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প কাণ্ডে ক্ষুব্ধ এরদোয়ান, দিলেন কড়া বার্তা Jan 08, 2026
img
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার সঙ্গে গুলিবিদ্ধ মাসুদ ঢামেকে Jan 08, 2026
img
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিতে আসছেন সাবেক ইংলিশ ব্যাটার Jan 08, 2026
img
জকসুর প্রথম ভিপি হলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম Jan 08, 2026
img
অস্ত্রহাতে ভাইরাল সেই যুবককে গ্রেপ্তার করলো যৌথবাহিনী Jan 08, 2026
img
অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান Jan 08, 2026