জুলাই আন্দোলনকারীদের দমনে উসকানি দেন সালমান-আনিসুল

প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানকারীদের দমনে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে উসকানি দেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন শুনানিতে এসব কথা বলেন।

প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দমনে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে উসকানি দেন সালমান ও আনিসুল হক। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়েছে। আসামিপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন এ রকম কোনো কথোপকথন হয়নি। বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করা হোক। তবে এ আবেদন নাকচ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী শুনানি করেন। অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল ৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ষড়যন্ত্র, সিস্টেমেটিক হামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করেছে। মিরপুরে ১৪ জনকে হত্যা ও ৫ আগস্ট মিরপুর ২, ১০ ও ১৩ নম্বরে ১৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব বন্ধে আসামিরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। গণঅভ্যুত্থানকালে সালমান ও আনিসুলের টেলিকথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। তাতে দেখা যায়, তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ করছেন। আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আনিসুল হক মন্তব্য করেন। তাদের এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডের উসকানি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে বলে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে।

এর আগে ২২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরও আগে গত ৪ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান ও আনিসুলকে আটক করা হয়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।


ইউটি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
‘আমাদের আলো’ সন্তান বিহান কৌশলের সঙ্গে অনুরাগীদের পরিচয় করালেন ভিকি-ক্যাটরিনা Jan 07, 2026
img
সন্তানদের সংগ্রাম দেখাই সবচেয়ে কঠিন: সাইফ আলী খান Jan 07, 2026
img
বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিত অংশীদারি চুক্তির আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে : ইইউ Jan 07, 2026
img
২৫ বছরের লুকোচুরি শেষে শাক্য-আরশির মিলনের অপেক্ষায় দর্শক! Jan 07, 2026
img
তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় আটলান্টিকে সাবমেরিন মোতায়েন রাশিয়ার Jan 07, 2026
img
দিল্লি হাসিনাকে বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ করেছিল : হাসনাত আব্দুল্লাহ Jan 07, 2026
img
‘বালিকাবধূ’ অভিনেত্রীর নতুন ইনিংস, মাতৃত্বের সফর কী এবার শুরু? Jan 07, 2026
img
মাঝ আকাশে জরুরি অবতরণ না করতে পারায় অসুস্থ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ Jan 07, 2026
img
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ Jan 07, 2026
img
দেব-শুভশ্রী জুটির ছবি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ চক্রবতী! Jan 07, 2026
img
স্বতন্ত্র প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্যারিস্টার মওদুদের স্ত্রী Jan 07, 2026
আইপিএলে মোস্তাফিজ: ৯ বছরের রোমাঞ্চকর পথচলা ও এক বিতর্কিত অধ্যায় Jan 07, 2026
‘ফ্যামিলি ম্যান’ নির্মাতার হাত ধরে ফের অ্যাকশনে ফিরছেন সালমান Jan 07, 2026
img
সম্পর্কের গোপন কাহিনি ফাঁস করলেন কাঞ্চন মল্লিক! Jan 07, 2026
img
নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর হিব্রু ভাষায় মোদীর পোস্ট, কী লিখলেন? Jan 07, 2026
img
বিজয়ের শেষ সিনেমার টিকিট বিক্রি ৫ হাজারে Jan 07, 2026
img
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২০ গ্রাম স্বর্ণসহ যাত্রী আটক Jan 07, 2026
img
নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা Jan 07, 2026
img
গত ৩ দিনে ইসিতে ২৯৫ আপিল Jan 07, 2026
img
বিপিএলে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড চট্টগ্রাম রয়্যালসের Jan 07, 2026