আদিত্য ধর জন্মগ্রহণ করেন ১২ মার্চ ১৯৮৩, ভারতের নয়াদিল্লিতে। কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারে বেড়ে ওঠা আদিত্যর মা সুনীতা ধর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন। সেখান থেকেই আদিত্য ধর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রায় দুই দশক তিনি যুক্ত ছিলেন ‘মিউজিক থিয়েটার’-এর সঙ্গে, যা তার গল্প বলা ও চিত্রনাট্য লেখার দক্ষতা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।
২০২১ সালে বড় ভাই লোকেশ ধর–এর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বি৬২ স্টুডিওস!
ব্যক্তিগত জীবন
২০২১ সালের ৪ জুন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আদিত্য ধর। হিমাচল প্রদেশের মান্ডিতে ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের বিয়ে। ২০২৪ সালের ১০ মে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান।
নিজ দেশের বক্স অফিসে ৮০০ কোটি ছুঁই ছুঁই ‘ধুরন্ধর’, সেই আনন্দে দেবী দর্শনে মন্দিরে স্ত্রী ইয়ামি গৌতমের সাথে আদিত্য
ক্যারিয়ারের শুরু
২০০৬ সালে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান আদিত্য ধর। শুরুটা করেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। পাশাপাশি গীতিকার ও সংলাপ লেখক হিসেবেও কাজ করেন। কাবুল এক্সপ্রেস, হাল-এ-দিল, ড্যাডি কুল-এর মতো ছবিতে গানের কথা লেখেন তিনি। এছাড়া প্রিয়দর্শনের ‘আক্রোশ’ ও ‘তেজ’ ছবিতে সংলাপ লেখার দায়িত্বও পালন করেন।
‘উরি’ দিয়ে পরিচালনায় অভিষেক
২০১৯ সালে ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আদিত্য ধর। বাস্তব ঘটনাভিত্তিক এই যুদ্ধ-অ্যাকশন ছবিটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। ভিকি কৌশল অভিনীত ছবিটি শুধু ব্যবসায়িকভাবেই নয়, সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়। এই ছবির জন্য আদিত্য ধর অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পরিচালকের সম্মান।
‘হাউজ দ্য জশ?’—এই সংলাপটি ভারতজুড়ে সাংস্কৃতিক বাক্যে পরিণত হয়, এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এটি উদ্ধৃত করেন।
‘উরি’ মুক্তির পর থেকেই আদিত্য ধরের কাজকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা দেয়। কেউ একে দেশপ্রেমমূলক সিনেমা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ একে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে আখ্যা দেন। যদিও আদিত্য ধর নিজে বারবার বলেছেন, তার ছবির উদ্দেশ্য রাজনীতি নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
পরবর্তীতে তার প্রযোজিত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ এবং সর্বশেষ ‘ধুরন্ধর’ ছবিকেও কেন্দ্র করে একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। কিছু সমালোচক জাতীয়তাবাদী বয়ানকে অতিরঞ্জিত বললেও, অনেক নির্মাতা ও অভিনেতা তার কাজের নির্মাণশৈলী ও দক্ষতার প্রশংসা করেছেন।
২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায় আদিত্য ধরের দ্বিতীয় পরিচালনা ‘ধুরন্ধর’। রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন, সঞ্জয় দত্ত ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই স্পাই থ্রিলারটি বিশ্বব্যাপী বিপুল ব্যবসা করে। ছবিটি ১০০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করে এবং বর্তমানে সর্বকালের ৫ম সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় সিনেমা হিসেবে অবস্থান করছে।
পরিচালনা, অ্যাকশন, সিনেমাটোগ্রাফি ও প্রোডাকশন ভ্যালু- সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ আদিত্য ধরকে বলিউডের শীর্ষ পরিচালকদের কাতারে তুলে এনেছে। ছবিটি দুই পর্বে নির্মিত হচ্ছে, যার দ্বিতীয় পর্ব মুক্তির কথা রয়েছে ১৯ মার্চ ২০২৬।
দেশপ্রেম, বিতর্ক ও বক্স অফিস- এই তিনের সংমিশ্রণেই যেন আদিত্য ধরের চলচ্চিত্রজগত। সমালোচনা যেমন আছে, তেমনি সাফল্যও প্রশ্নাতীত। ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, আদিত্য ধর এখন আর শুধু একজন পরিচালক নন, বরং সমসাময়িক হিন্দি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী নাম।
এসএন