ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন- পীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রখ্যাত নির্মাতা জাফর পানাহি এবং নির্বাসিত চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মদ রসুলফ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ পোস্টে তারা ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পোস্টে তারা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে লাখো ইরানি নাগরিক ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই বিক্ষোভ দমনে সরকার আবারও সবচেয়ে নগ্ন ও কঠোর দমনমূলক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ভেতরে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও ল্যান্ডলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগহীন করে ফেলা হয়েছে।
জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রসুলফ তাদের পোস্টে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে- এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্য মূলত বিক্ষোভ দমনের সময় চালানো সহিংসতা ও নিপীড়ন আড়াল করা। তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
পোস্টে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন অবস্থায় নিজেদের সহনাগরিক, পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও বন্ধুদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব মানুষ কোনো সহায়তা বা তথ্য আদান- প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন না।
এই প্রেক্ষাপটে জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রসুলফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংগঠন এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি জরুরি আহ্বান জানান।
তারা বলেন, ইরানের ভেতরে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রাখতে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির ভেতরে কী ঘটছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান তারা।
পোস্টের শেষাংশে তারা সতর্ক করে বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- আজ নীরব থাকলে ভবিষ্যতে তার জন্য গভীর অনুশোচনার মূল্য দিতে হয়।
উল্লেখ্য, জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রসুলুফ দুজনই ইরানের রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও দমননীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। তাদের এই যৌথ বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছে। বর্তমানে দুজনেই ইরানের বাইরে অবস্থান করছেন।
এমআই/টিএ