ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে আসেনি, আসতে পারছে না; সরকার তাদের দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বিএনপিই এখন প্রধান দল। আরেকটি দল নির্বাচনে এসেছে যারা আমাদের সঙ্গেই ছিল।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষক নিহত হয়েছেন। এতো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি নির্বাচন পেয়েছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন সংসদ ও সরকার গঠন করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা হলো, নতুন যে সরকার গঠিত হবে তারা দেশে শান্তি ও মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে আসেনি, আসতে পারছে না; সরকার তাদের দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বিএনপিই এখন প্রধান দল। আরেকটি দল নির্বাচনে এসেছে যারা আমাদের সঙ্গেই ছিল। এখন আপনারা কোনটিকে বেছে নেবেন— ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা? ধানের শীষের একটি গৌরবময় অতীত আছে। ধানের শীষের প্রবর্তক স্বাধীনতার মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যেখানে উগ্রতা, প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাতে আমাদের নেত্রী (বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া) হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তখন দেশজুড়ে এক ধরনের ভয়ভীতি কাজ করছিল, মনে হচ্ছিল বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে যাবে। শহরে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল; এখানে-সেখানে লুটতরাজ ও দখলদারিত্ব চলছিল। তখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই বলেছিলেন— অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এখন আর প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা নয়; বরং ভালোবাসা ও মমত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সেই সময় এখন আমাদের সামনে এসেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি রাজনৈতিক দল আজ আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে। আমার খুব কষ্ট হয় যে, এই বয়সে আমাকে এসব কথার উত্তর দিতে হচ্ছে। আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে বলতে চাই না; শুধু বলতে চাই— আপনারা এই শহরের মানুষ, আপনারা জানেন কারা আপনাদের সুসময়ে ও দুঃসময়ে পাশে থাকে। আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এই নির্বাচনে আপনারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দেশ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়বে। যারা দাঁড়িপাল্লার কথা বলে ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের দেশ পরিচালনা বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকার আমাদের সন্তানদের ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যখন পুলিশি তদন্ত (ভেরিফিকেশন) হতো এবং দেখা যেত প্রার্থীর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে কিংবা সে বিএনপি মহাসচিবের এলাকার মানুষ, তখন তার চাকরি আর হতো না। বিগত সময়ে এটাই ছিল বাস্তবতা। কিন্তু আমরা তেমনটি করব না; মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করব। যদি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন। আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান— সকলে মিলেমিশে কাজ করতে চাই।
তিনি স্থানীয় ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, একটি দল বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে যে, ধানের শীষে ভোট দিলে দেখে নেবে। আমি প্রশ্ন করতে চাই— তোমরা কীভাবে দেখবে? তোমাদের শক্তি কোথায়? আমি আমার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের পরিষ্কার করে বলতে চাই, আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন; যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি— এখানে কারো ওপর অন্যায়ভাবে একটি ফুলের টোকা পড়লেও আমরা কাউকে ছাড় দেব না।
এবি/টিএ