কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ব্রিটিশ সরকারের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ‘মার্কেট সেনসিটিভ’ তথ্য পাচারের অভিযোগে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি উঠেছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং রিফর্ম ইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেছে। খবর বিবিসির।
ফাঁস হওয়া নথিপত্র এবং ই-মেইল থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য সচিব থাকাকালীন ম্যান্ডেলসন সরকারের অভ্যন্তরীণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এপস্টাইনকে পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে ইউরো জোন রক্ষার বড় ধরনের আর্থিক প্যাকেজের তথ্যও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওয়েস্টমিনস্টারে এসএনপি নেতা স্টিফেন ফ্লিন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে দেয়া এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি পিটার ম্যান্ডেলসন এবং তাকে নিয়োগ দেয়া লেবার প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো ব্রিটিশ সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর হবে।’
তিনি আরও বলেন, ম্যান্ডেলসনের এই কর্মকাণ্ড জনগণের বিশ্বাসের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং এটি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লিন বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো ই-মেইল দেখেছি যেখানে বাজার-সংবেদনশীল তথ্য একজন সাজাপ্রাপ্ত পেডোফাইল (শিশু যৌন অপরাধী) জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সরকারের উচিত ক্যাবিনেট অফিসের মাধ্যমে এটি তদন্ত করা, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পুলিশকেও এর অপরাধমূলক দিকটি খতিয়ে দেখতে হবে।’
রিফর্ম ইউকে-ও নিশ্চিত করেছে যে তারা ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে পুলিশে রিপোর্ট করেছে। লন্ডন পুলিশ (দ্য মেট) জানিয়েছে, তারা এরইমধ্যে ‘পাবলিক অফিসে অসদাচরণ’ সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছে এবং তদন্ত শুরুর আইনি মানদণ্ড পূরণ হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করছে।
পুরো বিষয়ে ম্যান্ডেলসনের মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এসব নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও গত রোববার রাতে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
এই ঘটনায় ব্রিটেনজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এরইমধ্যে এই যোগাযোগের বিষয়ে ‘জরুরি’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কেলেঙ্কারি ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘ইনসাইডার ইনফরমেশন’ ফাঁসের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন- সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করার পর বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। নতুন এসব নথিতে ৭২ বছর বয়সি লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম এসেছে।
এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টেইন।
এ তথ্য প্রকাশের পর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে দলের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই রাজনীতিক।
চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের সঙ্গে আমি আরও যুক্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত বোধ করছি।’
এমআর/টিএ